দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি এবং ঝাড়খণ্ডের মতো কলকাতা শহরেও ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় পেটানোর ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল মঙ্গলবার। কাঠগড়ায় হিন্দু সংহতি সঙ্ঘ। ওই ঘটনায় ‘আক্রান্ত’ মাদ্রাসা শিক্ষক শাহরুখ হালদারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা জানিয়েছেন।
এ দিন সকালে শাহরুখকে ফোনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। আশ্বাস দেন পাশে থাকার। গতকাল ডাউন ক্যানিং লোকালে উঠেছিলেন শাহরুখ-সহ আরও বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু মানুষ। অভিযোগ, কলকাতায় একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য ওই কম্পার্টমেন্টেই উঠেছিলেন হিন্দু সংহতি সঙ্ঘের বেশ কয়েকজন কর্মী। শাহরুখদের ধরে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে। রাজি না হওয়ায় শুরু মারধর। চলন্ত ট্রেনেই বেধড়ক পেটানো হয় বলে অভিযোগ। ডান চোখে গুরুতর আঘাত লাগে পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা এই মাদ্রাসা শিক্ষকের।
আগে ভাটপাড়ার ৫৯ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন, আরও ২৫০ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সমান ক্ষতিপূরণ হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন দেখবে কোন পরিবারের কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়া এবং জগদ্দল-সহ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের হিংসায়। তা বুঝেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারিত হবে।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে ১০ জন খুন হয়েছেন, তাঁদের আগেই চাকরি দিয়েছি। বিজেপি-র যে দু’জন কর্মী খুন হয়েছেন (সন্দেশখালিতে), তাঁদের পরিবার যখন চাইবে তখন চাকরি দিয়ে দেব।” এ দিনও বিধানসভায় ভাটপাড়ার হিংসা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “বিজেপি-কে ভোট দিলে কী হয়, তার উদাহরণ ভাটপাড়া।”
যদিও বিজেপি নেতা মুকুল রায় এ দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের দাবি, তৃণমূলের ১০ জন মারা যায়নি। তিনি বলেন, “যদি পারেন মুখ্যমন্ত্রী ওই ১০ জনের নাম ঠিকানা বলুন। আমি তো আমাদের কর্মীদের নাম ঠিকানা, কবে খুন হয়েছে সব তথ্য দিচ্ছি।”