
শেষ আপডেট: 24 February 2022 14:13
দার্জিলিং থেকে এসেছেন আসিফ আলি, ব্যাচেলর অফ ফার্মেসি পড়ছেন তিনি। চার বছরের এই কোর্সের জন্য দরকার চার লক্ষ টাকা। আসিফের বাবার দার্জিলিংয়ে মুদির দোকান রয়েছে, রয়েছে একটা আনারসের বাগানও। তা থেকেই সংসার চলে, চালাতে হয় চার ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচও। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পুরো চার লক্ষ টাকাই পেয়ে গেছেন আসিফ। বললেন, এই টাকা না পেলে হয়তো পড়া হত না আর। বাবার উপর থেকে চাপ অনেক কমেছে, তাতে খুশি আসিফ।
পূর্ব মেদিনীপুরের জোহিলা খাতুন বিএড করছেন। পড়ার জন্য এক লক্ষ টাকা লোনের আবেদন করেছিলেন তিনি, পেয়েছেন ৫০ হাজার। পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে এই সাহায্য পেয়ে খুবই খুশি জোহিলা, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
পুরুলিয়ার অর্ঘ্য কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বায়োটেকনোলজিতে এমএসসি করছেন। এই কোর্সের জন্য সরকারের থেকে তিনি ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়েছেন। টাকা হাতে পেয়ে তিনি বললেন, সরকারের এই প্রকল্প আমাদের মতো ছাত্রছাত্রীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পড়াশোনায় খুব সুবিধা হচ্ছে। টাকাটা না পেলে পড়া চালিয়ে যাওয়া হয়তো হত না।
নেতাজি ইনডোরের আজকের অনুষ্ঠানে দার্জিলিং থেকে এসেছিলেন দীপঙ্কর সরকার। বেঙ্গালুরুতে নার্সিং পড়েন তিনি। দরকার তিন লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ভরসাতেই বাইরে পড়তে গেছেন বলে জানালেন তিনি। কিন্তু জেলায় তাঁকে ব্যাঙ্ক থেকে বলা হয়েছে এখনও টাকা আসেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থেকে আজ লোনের অনুমোদন পত্র দীপঙ্করের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। টাকা পেতে আর কোনও সংশয় নেই।
সাহিল প্রসাদ গুপ্তা শিলিগুড়ি থেকে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে। এলএলবি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন তিনি। পড়ার জন্য দরকার ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজার। টাকা পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন সাহিল। নিজেই জানালেন অতিমহামারী চলাকালীন পরিবারের আর্থিক সংকট চরমে উঠেছিল, লোন না পেলে পড়াশোনা হত না আর, হত না স্বপ্নপূরণ।
উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ডিএলএড কোর্সে ভর্তি হয়েছেন জলপাইগুড়ির সঞ্চিতা। প্রথম সেমেস্টারে ৪৮ হাজার টাকা লেগেছে, পরের সেমেস্টারেও তাই লাগবে। স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ভরসা পেয়েছেন তিনি, ক্যামেরার সামনে জানালেন এই টাকা তাঁর কাছে কতটা জরুরি ছিল।
ব্যাচেলর অফ ফার্মেসির জন্য ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার লোন পেয়েছেন মালদহের মিজানুর সর্দার। বাড়িতে আর্থিক অনটন চলছিল। সরকারি লোনের এই টাকাই তাঁর স্বপ্নপূরণের কারিগর, মানলেন এক বাক্যেই।
রাজনৈতিক কচকচানি থাকবেই, বিরোধীরা অনেকেই বলছেন সরকারের এই প্রকল্প আসলে সবটাই ফাঁকি, আবেদন জানিয়ে হাজার হাজার পড়ুয়া এখনও কোনও টাকাই পাননি। তবে বাংলার তরুণ প্রজন্মের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড আসলে একটা ভরসার নাম। সেই ভরসার তরীতে পা দিয়েই আগামীর সমুদ্রে ভাসছেন আসিফ, অর্ঘ্য, মিজানুর, জোহিলারা। পা বাড়াচ্ছেন স্বপ্নের ফানুস হাতে নিয়ে। নেতাজি ইনডোরে এদিন চোখে পড়ল সেই ভরসার ছবি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'