দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-এর বিশেষ আদালত। বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতের বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল দোষী সাব্যস্ত করার পর জানিয়েছেন, শুক্রবার সাজা ঘোষণা করা হবে।
এই কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৯ জন নিজেরাই অপরাধ স্বীকার করে নেন। বাকি ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এই ১২ জনের মধ্যে তিনজন রয়েছে, যারা বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত।
দোষী সাব্যস্ত ১৯ জনের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের উগ্রপন্থী সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিনের নেতৃত্ব। খাগড়াগড়ের মাস্টারমাইন্ড কৌসরের বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলছে। এই কৌসরকে ছিনতাই করার ছক করে.মাস দুয়েক আগে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল জেএমবি-র রঘুনাথগঞ্জ মডিউলের দুই সদস্য। এনআইএ-এর তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে যাতে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিচারক নিজে এই ১৯ জনের সঙ্গে কথা বলবেন। জানতে চাইবেন, সর্বোচ্চ সাজা সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা আছে কি না। তারপর সাজা ঘোষণা করবে এনআইএ-এর বিশেষ আদালত।
২০১৪ সালে গান্ধী জয়ন্তীর দিন বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। একটি বাড়ির দোতলায় জামাত জঙ্গিদের ঘাঁটিতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথমে অবিভক্ত বর্ধমান পুলিশের তরফে বলা হয় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু পরে পরিষ্কার হয় সিলিন্ডার নয়, আরডিএক্স ফেটেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। প্রসঙ্গত, যে বাড়ির উপরে এই জঙ্গি ঘাঁটি ছিল, সেই বাড়ির একতলাতেই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস। যদিও শাসক দলের তরফে জানানো হয়েছিল, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানত না। পেনের প্যাকিং কারখানার আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপ চলত বলে জানা গিয়েছিল। পরে তদন্তে নামে এনআইএ।