
শেষ আপডেট: 15 May 2018 10:50
রাজনৈতিক হিংসার কোনও ঘটনা ঘটেনি এখানে। কোনও রক্তপাত হয়নি। বরং দিনভরই ছিল উৎসবের মেজাজ। এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরাসরি ভোটে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। নির্দল হয়ে আদিবাসীরা। কোনও কোনও কেন্দ্রে শাসক দলের দু এক জন প্রার্থী থাকলেও তা ছিল না থাকারই মতো। অন্তত ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথেও তাদের লোকজনদের বিশেষ উপস্থিতি দেখতে পাননি এলাকার মানুষ। আদিবাসী সমাজের ডাক ছিল, আগে ভোট দেওয়া হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই। কিন্তু পাশে দাঁড়াননি কেউই। এ বার তাই ছিল নিজেদেরটা বুঝে নেওয়ার পালা। বেলপাহাড়িতে গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২৮ টি আসনের সবগুলিতেই প্রার্থী দিয়েছিল আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চ। পতাকা নয়, প্রতীক হিসেবে সাজিয়ে ছিলেন শালের ডাল। সমাজের ডাকে এ দিন সকাল থেকেই বুথমুখো হয়েছেন এলাকার মানুষ। রাত নামলেও ভাঁটা পড়েনি সেই উৎসাহে।
পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক দু’দিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন গ্রামে মাওবাদী পোস্টার নজর কেড়েছিল এলাকার মানুষের। সেই পোস্টারে অশনি সংকেত দেখে লাল সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন। শালবনিতে মাওবাদীদের নাম না থাকলেও পোস্টারে নিচে রাখা ছিল বুলেট। আবার বেলপাহাড়ির গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে মাওবাদীদের নাম করে সেঁটে দেওয়া পোস্টারে ছিল আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের প্রার্থীদেরই ভোট দেওয়ার ডাক। তাই কিছুটা থমকে গিয়েছিলেন বাসিন্দারা। তবে সব সংশয় সরিয়েই সোমবার রাত পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে ঢল নেমেছিল মানুষের। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরে পড়ার মতো।
ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, জেলার ১০২৬ টি বুথের মধ্যে জঙ্গলমহলের ১৯৭টি বুথে বেশি রাত পর্যন্ত ভোট চলে। রাত দশটা পর্যন্ত জেলায় মোট ভোটের হার ছিল ৮০ শতাংশ।
তবে কি ঘরের লোকের টানেই গভীর রাতে ভোটের লাইনে জঙ্গলমহল?