দ্য় ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতাল চত্বর সুনসান। চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসাকর্মীরাই ঘুরছেন ইতিউতি। রোগীর পরিবারের ভিড় অনেক কম। অনেক রোগী বাড়িও ফিরে গেছেন। অন্যদিনের চেনা হাসপাতালের ছবিটা আজ একেবারেই অন্যরকম। ফিসফাস শোনা গেল চিকিৎসা-কর্মীদের... “আমাদের তো ছুটি নেই, আমাদের তো আসতে হবে।”
হাসপাতালের একটা বড় অংশে যখন এমনই থমথমে পরিবেশ, তখন কিন্তু ভিড় উপচে পড়ছে আউটডোরে। কারণ অসংখ্য রোগী এসেছেন জ্বর-ঠান্ডা লাগা-গলাব্যথার উপসর্গ নিয়ে। সকলেরই আশঙ্কা, করোনাভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে তাঁর বা তাঁদের। এত ভিড়ে কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের পরিস্থিতি।
গতকাল রাতেই শহরে একজনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। লন্ডন-ফেরত সেই যুবকই এ শহরের প্রথম করোনা পজিটিভ। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে মানুষ আসছেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। কেউ হয়তো দেশ-বিদেশ ঘুরে এসেছেন দিন কয়েক আগে, ওই যুবকের ঘটনা চোখ খুলে দিয়েছে, কেউ আবার ভিন্ রাজ্যে গেছিলেন। আবার কেউ-কেউ শুধুমাত্র শিয়ালদা স্টেশন কিংবা হাওড়া স্টেশনে গিয়েছিলেন কোনও কাজে, সেই ভয়েই চলে এসেছেন হাসপাতালে। সকলেরই আতঙ্ক একটাই নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়নি তো!
সদ্য টার্কি থেকে ফিরেছেন এক যুবক ও তাঁর পরিবার। দিল্লি এয়ারপোর্টে সকলের স্ক্রিনিং হয়েছে তাঁদের, কোনও অসুবিধা মেলেনি। তার পরেও সেখান থেকে কলকাতায় নেমেই সোজা বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে এসেছেন তাঁরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে, চিকিৎসকের নির্দেশ পেলে তবেই তাঁরা পরিবারের কাছে ফিরতে চান।
গত কাল হাওড়া স্টেশনে গিয়েছিলেন এক মহিলা। তিনি জানাচ্ছেন, হাওড়া স্টেশনে প্রচুর মানুষ থাকে তাই তিনি কোনও ঝুঁকি না নিয়ে চেকআপ করতে চলে এসেছেন এখানে। উল্টোডাঙার বাসিন্দা এক বৃদ্ধও গতকাল বাধ্য হয়েছিলেন ভিড় ট্রেনে করে ফিরতে। কোনও আশঙ্কার সম্ভাবনা রাখতে চাননি তিনিও, সকালেই চলে এসেছেন বেলেঘাটার আউটডোরে।
দমদমের ঘোষ পরিবার ফিরে এসেছেন ওমান থেকে। সেখানে ছেলের কাছে গিয়েছিলেন তাঁরা। আজ সকালে পুলিশের ফোন পান তাঁরা। যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য দফতরের তরফেও। প্রবীণ দম্পতি জানালেন, ফোন পেয়েই ছুটে এসেছেন তাঁরা। রান্নাও শেষ করেননি।
সূত্রের খবর, আজ, বুধবার করোনা সন্দেহে নতুন উনিশ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে আইডি-তে।
চিকিৎসকরা বারবারই বলছেন, সতর্ক থাকা জরুরি, আতঙ্কে থাকা নয়। কিন্তু এ শহরের বহু মানুষ যে আদতেই আতঙ্কিত, তা স্পষ্ট এদিনের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল দেখলেই। বিশেষ করে গতকাল জানা গেছে, শহরের প্রথম করোনা-রোগী কয়েক দিন ঘোরাঘুরি করেছেন শহরের নানা এলাকায়—এই তথ্য সামনে আসার পরে অনেকেই ভয় পেতে শুরু করেছেন সংক্রমণের।
তবে চিকিৎসকদেরই একাংশ বলছেন, এই ভয়টা খুব অমূলকও নয়। একটা বড় অংশের মানুষ যখন এখনও সচেতন নন, তখন অন্য অংশের এই 'ভয়'ই হয়তো খানিকটা সংক্রমণের সম্ভাবনা কমাতে পারে।