
শেষ আপডেট: 21 April 2022 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান শহর। একটি বড় দোকানের সামনে এসে দাঁড়াল একটি দুধসাদা রয়্যাল এনফিল্ড। বাইকটি স্ট্যান্ড করে ব্যাক পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে কাউন্টারে গিয়ে চারটে চিল্ড বিয়ার চাইলেন এক যুবক। দোকানদার জানিয়ে দিলেন, হবে না। বিয়ার বাড়ন্ত (Beer Crisis Bardhaman)!
কলকাতা শহরেও একই ছবি। হাওড়া, হুগলি—বিয়ার কিনতে গিয়ে অনেককেই ফিরতে হচ্ছে শুকনো মুখে। কেউ কেউ অবশ্য অন্য মদ কিনে ফেলছেন। ঠান্ডা জল দিয়ে খেলে তবু কিছুটা সাধ মিটবে। কিন্তু গরমের সঙ্গে চিল্ড বিয়ারের যে কম্বিনেশন, সেটা অনেকেই এবার পাচ্ছেন না। বিয়ারের আকাল দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি যখন এমন তখন মদ বিক্রেতাদের সংগঠন আবগারি দফতরের কাছে আকুল হয়ে আর্তি জানাল, বিয়ারের চাহিদা মেটানো হোক। তাতে যেমন ব্যবসায়ীদের ভান্ডারেও লক্ষ্মী আসবে তেমন রাজ্য সরকারেরও রাজস্ব আদায় হবে।

ওয়েস্টবেঙ্গল পচাই অ্যান্ড কান্ট্রি স্পিরিট ভেন্ডর অ্যাসোসিয়েশন চাহিদা মতো বিয়ার চেয়ে আবগারি দফতরে চিঠি পাঠিয়েছে। ওই সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গুসকরার বাসিন্দা মেঘনাদ সাহা বলেন, “চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না বলে ব্যবসায়ীদের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমন রাজ্য সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।”
বর্ধমানে বিয়ারের সংকট (Beer Crisis Bardhaman) যেন খরার আকার নিয়েছে। গলসির বাসিন্দা ব্যবসায়ী শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন সপ্তাহে মাত্র ১৭ ক্যারেট বিয়ার পাওয়া যাচ্ছে। এক ক্যারেটে ৬৫০ মিলিলিটারের ১২টি বোতল থাকে। অথচ এখন বিয়ারের চাহিদা এর থেকেও অনেক বেশি।’ মেমারির সাতগেছিয়ার ব্যবসায়ী প্রলয় ঘোষের বক্তব্য, এখন তিনি যদি সপ্তাহে ১৪০ ক্যারেট বিয়ার পান সেটাই ঝড়ের গতিতে বিক্রি হয়ে যাবে। কিন্তু মিলছে মাত্র ১০ ক্যারেট। ব্যবসায়ী সনাতন সিংহ দাবি করেন, ‘গত বছর গাড়ি গাড়ি বিয়ার তুলেছিলাম। আর এখন গাড়ি তো দূরের কথা, চাহিদার অর্ধেকও বিয়ার মিলছে না।’ একই আক্ষেপের কথা শুনিয়েছেন বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, গুসকরা, জামালপুরের মদ ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এমনিতে গরমে বিয়ারের চাহিদা বরাবরই বেশি থাকে। তবে এবার বিয়ারের দাম আগের থেকে কমে গিয়েছে। তাই যে সব সুরাপ্রেমীরা আগে পচাই বা দেশি মদ খেতেন তাঁরাও এখন এই গরমে বিয়ারের দিকে ঝুঁকেছেন। যে কারণে বিয়ারের চাহিদা এক লাফে বেড়ে গিয়েছে। বর্ধমানে বিয়ার সংকটের পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলেও মত অনেকের। পূর্ব বর্ধমান জেলার ৩১৩টি দোকানে বিয়ার স্টোর করার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। আবগারি দফতরের তরফে যদিও বলা হচ্ছে, এপ্রিল-মে মাসে প্রতি সপ্তাহে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৮-২০ হাজার ক্যারেট বিয়ার লাগে। সেই চাহিদা মতোই চলতি সপ্তাহে যোগান দেওয়া হয়েছে। বিক্রিও গত বছরের চেয়ে ৮-৯ শতাংশ বেশি হয়েছে। তারপরেও এখন দোকানে দোকানে বিয়ার বাড়ন্ত (Beer Crisis Bardhaman)।
তবে বিয়ারের যোগান কম থাকায় ফরেন লিকার বা বিলিতি মদের চাহিদাও বেড়ে গিয়েছে বয়লে খবর। আবগারি দফতর সূত্রে খবর, শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই এপ্রিল মাসে বিলিতি মদের বিক্রি ২৯ হাজার লিটার বেড়েছে। যা গত মার্চ মাসের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। জেলা আবগারী দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে শুধু মাত্র দোকানের হিসেবে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২০ কোটি টাকারও বেশি মদ-বিয়ার বিক্রি হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা আবগারি দফতরের সুপার এনায়েত রব্বির বক্তব্য, “জোগানে ঘাটতি নেই বললেই চলে। তবে গরমের জন্যে বিয়ারের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে।” তবে বিয়ার কবে থেকে চাইলেই মিলবে সেই জবাব আবগারি দফতরের কর্তারা দিতে পারেননি।