
শেষ আপডেট: 1 August 2018 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগেই কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এক তরুণী। বিধাননগর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণী এসে তাঁর থেকে ফোন নম্বর চান। কথায় কথায় তিনি দিয়েও দেন। এরপর ওই তরুণী শোনেন অফিসের আরও দুই সহকর্মীর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ জানানোর কথা ফেসবুকে লিখতেই দেখা যায় প্রায় কয়েকশো মহিলা কার্যত ‘মি টু’ কায়দায় বলেন তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। কলকাতা পুলিশ গোটা বিষয়টি নজরে আনে জিআরপি এবং আরপিএফ-এর। কিন্তু এরপরেও থামল না। বরং ছড়িয়ে পড়ল জেলাতেও।
হাওড়ার বালি, বেলুড়, হুগলির শ্রীরামপুর, চন্দননগর, উত্তর ২৪ পরগণার সোদপুর, মধ্যমগ্রাম সহ কলকাতার লাগোয়া জেলার একাধিক রেল স্টেশনে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
কীভাবে ঘটছে ওই ঘটনা?
হুগলির এক তরুণী বলেন, এক সুন্দরী মহিলা এসে প্রথমেই লিপস্টিকের রঙের প্রশংসা শুরু করেন। এরপর কানের দুল, নেল পলিশ নিয়ে কথা বলতেই বলতেই চেয়ে বসেন ফোন নম্বর। তাঁর কথায়, এমন ভাবে গোটা পরিস্থিতি তৈরি হলো যে ফোন নম্বর না দিয়ে উপায় নেই। জানা গিয়েছে সর্বত্রই আলাপ জমানোর শুরু হচ্ছে লিপস্টিক, কানের দুল বা নেল পলিশ দিয়েই। এবং এও জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত ওই সূত্রে কোনও ফোন আসেনি তাঁদের কাছে। হোয়াটস অ্যাপে একটা পিং-ও না।
তাহলে? কিসের জন্য এই ফোন নম্বর সংগ্রহ?
অনেকে বলছেন, হতে পারে প্রাথমিকভাবে একটা বড় সংখ্যার ফোন নম্বর সংগ্রহ করেই তারপর নিজেদের কাজে নামবে এই চক্র।
কিন্তু কী চক্র? শুধু কেন অল্পবয়সী মহিলাদের থেকেই নেওয়া হচ্ছে ফোন নম্বর? যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকত তাহলে তো শুধু বয়স বা লিঙ্গ বাছাই করে এই কাজ হতো না। অনেক মহিলাই বাড়তি ঝামেলার ভয়ে লিখিত অভিযোগ করছেন না পুলিশে। ফলে প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার নয় এখনও। হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা এক মহিলা ব্যাঙ্ককর্মী বলেন, “গোটা বিষয়টি একটা আতঙ্কের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।”