দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়ি যেন এখন ভাল্লুকময়! জেলাশাসকের বাংলোর দরজায় ভল্লুকের পায়ের ছাপকে ঘিরে দু'দিন ধরে তোলপাড় হচ্ছে জেলা। এবার বিয়ে বাড়িতেই ঢুকে পড়ল ভাল্লুক!
বৃহস্পতিবার সকালে মালবাজারের বাটাইগোলার বিয়ে বাড়িতে ছোট্ট একটি ভাল্লুক ছানা ঢুকে পড়ে। তাকে কখনও আলমারির নিচে লুকোতে, আবার কখনও ভয় পেয়ে ঘরের কোণায় জড়োসড়ো হয়ে থাকতে দেখা গেল।
এই ছোট্ট ভাল্লুক ছানা দেখলে যেন তাকে আদর করতে ইচ্ছে করবে। ঠিক যেন এক নিষ্পাপ শিশু! তবে জেলা জুড়ে ভাল্লুকের আতঙ্ক থাকায় সাধারণ মানুষ সাহস করে তার ধারে-কাছে যায়নি।
বিয়েবাড়ির মালিক বিশ্বনাথ পোদ্দার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনিই প্রথম ভাল্লুকটিকে দেখেন। তৎক্ষণাৎ বন দফতরে খবর দেন।
পরিবেশবিদদের মতে, জঙ্গল থেকে এত ছোট ভাল্লুক একা একা লোকালয়ে চলে আসতে পারে না। নিশ্চয়ই সে তার পূর্ণবয়স্ক মায়ের সঙ্গে শহরে ঢুকেছে। তার পর কোনও ভাবে সঙ্গ ছাড়া হয়ে ওই বিয়েবাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
এদিকে জলপাইগুড়ি শহরে ভাল্লুকের রক্তাক্ত পায়ের ছাপ ও সিসিটিভি ফুটেজে তার অস্তিত্ব পাওয়ার পরে দু'দিন ধরে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে বনকর্মীরা। এমনকি তাকে ধরার জন্য মধু-পাঁউরুটির টোপ পর্যন্ত ফেলা হয়েছে। যদিও তার দেখা নাই, দেখা নাই।
এরই মাঝে মাল পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বিয়েবাড়িতে ছোট্ট ভাল্লুক ছানার আবির্ভাব ফের নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে জেলায়। তবে আশেপাশেই মা ভাল্লুকের লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকায় আতঙ্কও বেড়েছে মানুষের। বাইরে বের হতে সতর্ক করে দিয়েছে প্রশাসন।
মালবাজারে এই ভাল্লুক শাবকের কথা জানতে পেরেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় বনদফতরের কর্মীরা। তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আসা হয়েছে।