দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মিষ্টি হাবের’ অভিজ্ঞতা তেতো। তা চলেনি। এ বার বাতাসা, কদমার অভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে সোমবার তিনি জানিয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ জেলায় জেলায় শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হবে।
তবে মমতার এদিনের ঘোষণাকে ভোট প্রতিশ্রুতি হিসাবেও ধরা যেতে পারে। কারণ, কয়েক দিনের মধ্যে ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। তার আগে এ সবের জন্য জমি অধিগ্রহণ, অর্থ বরাদ্দ, দরপত্র হাঁকা ইত্যাদি কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বাংলায় প্রায় দশ বছর ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। দুটি মেয়াদ প্রায় পূর্ণ। বিরোধীদের অভিযোগ, এই দশকে তাঁকে মেলা, খেলা, কার্নিভালের উদ্বোধন করতেই দেখা গিয়েছে। একটিও শিল্প কারখানার উদ্বোধনে দেখা যায়নি। আর শিল্প না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় না। রবিবার এ ব্যাপারে ‘মমতা দিদির’ তীব্র সমালোচনা করেছেন নরেন্দ্র মোদীও।
বিরোধীদের কথা থাক। আম বাঙালির অনেকের মতে, বাংলায় নতুন বড় শিল্প স্থাপন যে হয়নি, তা বাস্তব। বণিকসভার প্রাক্তন কর্তাকে অর্থমন্ত্রী করেও বৃহৎ শিল্পের মুখ দেখেনি বাংলা।
সম্ভবত সে কারণেই এদিন ঢালাও শিল্প পার্কের প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দ্বিতীয়বার বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পূর্ব বর্ধমানের বামাইচাঁদপুরে মিষ্টি হাব পত্তনের ঘোষণা করেছিলেন। ১৭ সালের ৭ এপ্রিল তার উদ্বোধন হয়েছিল। কিন্তু ২ বছরের চেষ্টাতেও সেটাকে দাঁড় করানো যায়নি। একের পর এক ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে। হতে পারে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিপণন কেন্দ্রে পরিবর্তে এদিন উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাতাসা, কদমা তৈরির জন্য পূর্ব বর্ধমানে একটি অভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হবে।
কোচবিহারে মেখলা ড্রেস তৈরির জন্য কমন ফেসিলিটি সেন্টার গড়ে তুলবে সরকার। হাবড়ায় মেগা পাওয়ারলুম ক্লাস্টার। বানিপুরে ১০ একর এবং অশোকনগরে ৪০ একর জমিতে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত হবে এই ক্লাস্টার।
এ ছাড়া মালদহে সিল্ক পার্ক, শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে শিল্প পার্ক, রঘুনাথপুরে শিল্প শহর, বাঁকুড়ায় টয় পার্ক, বজবজে শিল্প পার্ক, জগদীশপুরে হোসিয়ারি পার্ক ইত্যাদি গড়ে তোলা হবে। তাঁর কথায়, বাংলায় সব থেকে বিনিয়োগের দরজা খুলে গেছে। এই সব প্রকল্প খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এবং সেই গুলি রূপায়ণ হলে বাংলায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, ভোট ইস্তাহার ঘোষণা অবশ্যই অধিকার রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে এই সব ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে গত দশ বছরে উনি কিছুই করেননি।