
শেষ আপডেট: 25 November 2019 02:00
‘বারুইপুর জলাশয় বাঁচাও কমিটি’র তরফে লিফলেট বিলি করে দাবি করা হয়েছে: কলপুকুর, পদ্মপুকুর-সহ এলাকার বিভিন্ন ছোট-বড় জলাশয় বেশ কয়েক বছর ধরে অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে। কখনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে, কখনও নাগরিক অসচেতনতায়, কখনও আবার প্রশাসনিক উদাসীনতায় বুজে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে তারা। প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বিপন্ন।
এই অবস্থায় জোট বেঁধেছেন বারুইপুরের সাধারণ মানুষ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন, বারুইপুর হাইস্কুল, মদারাট পপুলার অ্যাকাডেমির প্রাক্তনীরা ও এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে কমিটি। শুরু হয়েছে জলাশয় বাঁচানোর আন্দোলন।
ইতিমধ্যেই কমিটির দাবিগুলি প্রশাসনের সমস্ত স্তরে পেশ করা হয়েছে। দাবিগুলি হল: ১) অবিলম্বে কলপুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে এবং তার সংস্কারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারকে যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে, ২) আদিগঙ্গা-সহ পদ্মপুকুর অঞ্চলের মানচিত্র প্রকাশ করতে হবে, ৩) পদ্মপুকুরের যে অংশ ইতিমধ্যেই ভরাট করে বিক্রি করা শুরু হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, ৪) প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা জলাশয়ে ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং ৫) খাল সংস্কার করে জলনিকাশি ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে বর্ষায় রেল চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
এই দাবি নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রথম গণকনভেনশন ছিল গতকাল, রবিবার। সেখানে অংশগ্রহণ করার জন্যও প্রশাসনের সমস্ত স্তরে আবেদন জানানো হয়েছিল। নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল কাউন্সিলরদের। চিঠি দেওয়া হয়েছিল পৌরসভাতেও। কিন্তু কমিটির তরফে কৌশিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শাসকদলের কেউই উপস্থিত হননি এদিনের অনুষ্ঠানে।
তবে শাসকদল অনুপস্থিত থাকলেও, বহু মানুষের ভিড়ে ভরে ওঠে গণকনভেনশনের আয়োজন। বহু মানুষ বক্তব্য রাখেন এ বিষয়ে। সুজন চক্রবর্তী তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা ভাগ করে নিয়ে বলেন, "আমি সাংসদ থাকাকালীন বহু পরিকল্পনা হয়েছিল এই এলাকার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য তৈরি হয়েছিল আইনও। কিন্তু এখন এমন একটা দিন এসেছে, যখন আইন ভাঙাটাই আইন।"
বিকাশ ভট্টাচার্য পরিবেশ আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলেন। তুলে আনেন চিপকো আন্দোলনের কথা। পরিবেশ রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ কীভাবে আইনি সুবিধা পেতে পারেন, তা বুঝিয়ে বলেন সকলকে। সেই সঙ্গে উল্লেখ করেন, বারুইপুর এলাকার জলস্তর খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। জলাশয় বুজিয়ে ফেলে বিপদ বাড়ছে ক্রমে। জলাশয় বাঁচাতে না পারলে, খুব তাড়াতাড়ি জলকষ্টের সম্মুখীন হবে এই এলাকা।
বিকাশবাবুর কথার সূত্র ধরেই পরিবেশে জলাভূমির গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন সৌরভ চক্রবর্তী। মনে করিয়ে দেন, নাগরিকদের এই উদ্যোগ সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। কোথাও কোথাও যেন ইচ্ছাকৃত ভাবে পুকুর বোজানোর পক্ষ নেওয়াও হয়ে দাঁড়াচ্ছে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা।
জলাশয় বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে আগামী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এদিন। জানানো হয়, গণস্বাক্ষর-সহ লিখিত আবেদন প্রসাসনের সমস্ত স্তরে পাঠানো হবে। ডেপুটেশনও দেওয়া হবে বেশ কিছু জায়গায়। সাড়া না পেলে করা হবে পদযাত্রা। শেষমেশ কোনও মহল কোনও উদ্যোগ না নিলে, কমিটির পক্ষ থেকে পরিবেশ আদালতে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জলাশয় বাঁচাও কমিটির সদস্য কৌশিক মুখোপাধ্যায়। আপাতত সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ মনে করানোটাই জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা। এবং এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দলমত নির্বিশেষে। কোনও রাজনৈতিক রং যাতে না লাগে, সে দিকেও নজর রেখেছেন তাঁরা।