বর্ধমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় লক্ষ্মীপুজোর জোগাড় করছেন মহিলারা, স্বনির্ভরতার পাঠ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ দিনমজুরের কাজ করেন। কেউ বা সেলাই দিদিমণি। কেউ আবার হোম ডেলিভারির কাজ করেন। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজ নিয়েও দিনরাত ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। এবছর দুয়ারে সরকার প্রকল্পে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে (Lakshmir Bhandar) আবেদন করেছিলেন
শেষ আপডেট: 20 October 2021 04:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ দিনমজুরের কাজ করেন। কেউ বা সেলাই দিদিমণি। কেউ আবার হোম ডেলিভারির কাজ করেন। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজ নিয়েও দিনরাত ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। এবছর দুয়ারে সরকার প্রকল্পে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে (Lakshmir Bhandar) আবেদন করেছিলেন পাড়ার সকলেই। সেই টাকা প্রথমবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকল লক্ষ্মীপুজোর ঠিক আগে। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন মহিলারা। রাজ্যে অর্থ আগমনের প্রার্থনায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়েই লক্ষ্মীপুজো করবেন।
লক্ষ্মীপুজোর সকালে ঝেঁপে বৃষ্টি নামল শহরে, ভাসছে উত্তরবঙ্গ
তাঁরা সকলেই আসানসোলের কুলটির বাসিন্দা। স্বামীরা দিনমজুর। পাকা বাড়ি কারও নেই। তবে কুলটির মিঠানির মা সারদা স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে ইতিমধ্যেই স্বনির্ভর হওয়ার মন্ত্র পেয়েছেন এ পাড়ার মহিলারা। তাঁদের ইচ্ছেয় মাটির ঘরের নিকনো উঠোনেই অধিষ্ঠিত হবেন বাংলার ভাগ্যলক্ষ্মী।
গোটা পাড়া মিলিয়ে একসঙ্গে পুজোর তোড়জোড় শুরু হল। এতদিন বাসন্তী, মালা, ঋনা, সুষমাদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা হাতে পেয়ে প্রথমবার জীবন উপভোগ করছেন বধূরা। সরকারি প্রকল্পই যখন মা লক্ষ্মীর নামাঙ্কিত, ছোট করে হলেও সেই রাজ্যলক্ষ্মীকে তুষ্ট করতে চাইলেন ওঁরা। মাটির বাড়ির দাওয়াতেই লক্ষ্মী প্রতিমা বসানো গিয়েছে। আমের পল্লব দিয়ে সাজানো হয়েছে বেদি। পুজোর অন্যান্য আয়োজনও প্রায় শেষ।
প্রতিষ্ঠিত দেবীর কাছে তাঁদের একান্ত কামনা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অক্ষয় হোক। লক্ষ্মী লাভ হোক বাংলার। রাজ্যলক্ষ্মীকে তুষ্ট করতে এমন সর্বাঙ্গীন প্রার্থনা জেলায় এই প্রথম। তাঁদের মাটির ঘর আলো করে আসুন লক্ষ্মী দেবী, রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধি হোক, তাতেই সকলের মঙ্গল। এলাকার সবার প্রার্থনা এসে মিলে যেতে চাইল সেখানেই। সকলের কামনা, সেই বিশেষ লক্ষ্মীপুজো সার্থক হোক।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'