
শেষ আপডেট: 25 October 2022 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ভিন্ রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়লেন বর্ধমানের (Purba Bardhaman) এক দম্পতি। শিশু-স্ত্রীকে নিয়ে তিনমাস ধরে বেঙ্গালুরু জেলে দিন কাটাচ্ছেন পলাশ অধিকারী। আর ছেলে-বৌমা-নাতির মুক্তির অপেক্ষায় গ্রামের বাড়িতে বসে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা!
পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জৌগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তেলে গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা পলাশ। এই গ্রামে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে দারিদ্রতা নিত্যসঙ্গী। তাই পরিবারে আর্থিক অবস্থা পাল্টাতে স্ত্রী ও দেড় বছরের পুত্রকে নিয়ে কর্নাটকে পাড়ি দেন পলাশ।
কর্নাটকের (Karnataka) মারাথাহাল্লি মহকুমার ভারথুর থানার সুলিবেলে গ্রামের কায়েন খানের ডেরায় ওঠেন তাঁরা।সেখানে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বেঙ্গালোর পুলিশ, তাঁদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ভেবে জেলে ভরে দেন। প্রায় তিন মাস স্ত্রী শুক্লা ও ছেলে আদিকে নিয়ে জেলেই রয়েছেন পলাশ।
জানা গেছে গত ২৭ জুলাই পুলিশ কায়েন খানের ডেরায় হানা দেয়। সেখান থেকেই পলাশদের তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পাকড়াও করে পুলিশ। পলাশের আত্মীয় পিন্টু হাওলাদার জানান, "সেখানে যাঁরা যাঁরা বাংলাভাষী ছিলেন তাঁরা সবাই নাকি বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী, এমন সন্দেহে ভারথুর থানার পুলিশ পলাশদের ও আরও পাঁচ জনকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যায়।"
এদিকে পলাশের বাবা পঙ্কজ অধিকারী ও মা সবিতাদেবী থানায় গিয়ে ছেলে ও বৌমার ভারতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলেও কোনও লাভ হয়নি। পঙ্কজের কথায়, ভাষার সমস্যার জন্য এটা হয়েছে। তবে প্রমাণ দিলেও পুলিশ ছাড়ছে না ছেলেকে। তাই জেল থেকে ছেলে-বৌমা-নাতির মুক্তির জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাহায্যের আশায় বসে রয়েছেন পঙ্কজ-সবিতা।
পলাশের আত্মীয় সুজন হালদার দাবি করেন,“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কেন্দ্র পশ্চিমবাংলায় সিএএ,এনআরসি লাগু করতে পারেনি। তবে মনে হচ্ছে বিজেপি শাসিত কর্নাটক সরকার অলিখিত ভাবে সিএএ, এনআরসি কার্যকরে যাঁকে পাচ্ছে তাঁকে বিদেশি বলে জেলে ভরে দিচ্ছে।"
এই ঘটনার খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে। জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানান, “এমন একটা ঘটনার কথা আমি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনকে ওয়াকিবহাল করা হয়েছে।" জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অলোক মাঝি জানান, "কালীপুজো মিটলেই এই বিষয়টি নিয়ে জেলা জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।"
কালীপুজোর রাতে দীঘার কাছে উল্টে গেল যাত্রীবাহী গাড়ি, বেপরোয়া গতির বলি ৩