
শেষ আপডেট: 28 September 2021 10:13
মিউকরমাইকোসিস হল একরকম ফাঙ্গাল ডিজিজ যা বিষাক্ত ছত্রাকের থেকে ছড়ায়। নিঃশ্বাসের সঙ্গে এর রেণু শরীরে ঢুকে গেলে দেহকোষগুলিকে সংক্রামিত করে। নাক, মুখ, ত্বকের ছিদ্র দিয়ে সহজে ঢুকে পড়ে মানুষের শরীরে। শরীর যদি দুর্বল হয় ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে আসে তাহলে এই ছত্রাকের রেণু শরীরে ঢুকলে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত ফুসফুস, চোখ, কিডনি ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়ায় এই ছত্রাক। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। এইচআইভি-র রোগী, ডায়াবেটিস মেলিটাস, ক্যানসার, কিডনির রোগে আক্রান্তদের এই ছত্রাকজনিত সংক্রমণের শঙ্কা বেশি। অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে যাদের তেমন রোগী, দীর্ঘদিন সিরোসিসে ভুগছেন এমন রোগী, অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের মিউকরমাইকোসিসের সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া ছত্রাকের রেণু যেহেতু নাক দিয়ে ঢুকে সরাসরি শ্বাসনালীতে যেতে পারে তাই ফুসফুসের ক্রনিক রোগ রয়েছে বা সিভিয়ার রেসপিরেটারি ডিসট্রেসে ভোগা রোগীদের মিউকরমাইকোসিসের ঝুঁকি অনেক বেশি।
শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা নিয়ে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিলেন এক প্রৌঢ়া। তিনি জানান, সারা শরীরে ব্যথা ছিল, শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল, মারাত্মক কাশি শুরু হয়েছিল আর সেই সঙ্গে পেটে ব্যথা। প্রস্রাবের সমস্যাও শুরু হয়েছিল। বেশিদিন এই সংক্রমণ থাকলে মৃত্যু হতে পারত। ডাক্তারদের চিকিৎসায় এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।
হাসপাতালেক তরফে জানানো হয়েছে, মিউকরমাইকোসিসের চিকিৎসার উন্নত পরিকাঠামো আছে এই হাসপাতালে। মেডিসিন, চেস্ট মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, প্যাথোলজি বিভাগ, রেডিওলজি (সিটি স্ক্যান, এমআরআই), অ্যানাস্থেশিওলজিস্ট, ফার্মাকোলজি বিভাগের ডাক্তারদের নিয়ে টিম তৈরি করা হয়েছে। মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণ নিয়ে যত রোগী আসবেন তাঁদের আধুনিক ট্রিটমেন্ট দিয়ে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন ডাক্তাররা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'