
শেষ আপডেট: 17 January 2023 09:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: পরিবারের জোড়া বিয়ের অনুষ্ঠান। এদিকে গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে হাতির দল (Elephants)। যে কোনও মুহূর্তে গজরাজের হামলার আশঙ্কা তাই বিয়ের আনন্দ ম্লান। নির্বিঘ্নে যাতে বিয়ে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে বন দফতরের দ্বারস্থ আতঙ্কিত গৃহস্থ।
লিখিত আবেদনে গৃহস্থের অনুরোধ বিয়ের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে এলাকা থেকে সরানো হোক হাতির পাল। বন দফতরের তরফে মৌখিক আশ্বাস মিলেছে। তবুও জোড়া বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে আতঙ্ক যেন কিছুতেই কাটছে না বাঁকুড়ার (Bankura) কদমা গ্রামের মণ্ডল পরিবারের।
মঙ্গলবার একই সঙ্গে এক ভাই ও এক ভাইঝির বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন কদমা গ্রামের বাসিন্দা স্বরূপ মণ্ডল। স্বাভাবিক ভাবে ওই পরিবারে এখন বিয়েবাড়ির ব্যস্ততা তুঙ্গে। আত্মীয়স্বজনে গমগম করছে পুরো বাড়ি। কিন্তু গ্রামের অদূরেই জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়ে হাতির দল আনন্দের তাল কাটছে বারবার। স্বরূপবাবু বলে, “পরিবারে একসঙ্গে দুটো বিয়ে। এত আত্মীয় আসার কথা। যদি হাতির পাল ঢুকে কোনও অনর্থ ঘটায় সেই দুশ্চিন্তায় আমাদের ঘুম চলে গেছে। বন দফতরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমাদের অসহায়তার কথা। ওরা নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। এখন সব ভালভাবে মিটলে স্বস্তি পাই।”
কয়েকদিন আগেই জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকে পড়েছিল হাতির দলটি। এখনও গ্রামের রাস্তায় ও মাঠে হাতির পায়ের ছাপ স্পষ্ট। বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড়ে হাতির হানায় জোড়া মৃত্যুর স্মৃতিও এখনও টাটকা। প্রতিদিনই নিয়ম করে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে বাড়ি ঘর ভাঙছে হাতির পাল। দফারফা করে দিচ্ছে খেতের ফসলের। এসব খবর যত পাচ্ছেন, ততই চিন্তা বাড়ছে কদমা গ্রামের মণ্ডল পরিবারে।
হাতির দল যদি বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়ে সব লন্ডভন্ড করে দেয় বা যদি ভয়ে নিমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে না আসতে পারেন সেই চিন্তাতেই আচ্ছন্ন মণ্ডল পরিবার। আজকের বিয়ের অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তাই বন দফতরের দ্বারস্থ হয়েছে মণ্ডল পরিবার। বেলিয়াতোড়ের রেঞ্জ অফিসার মহিবুল ইসলাম বলেন, “ওঁদের আতঙ্কের বিষয়টা বুঝতে পারছি। হাতির ভয়ে বিয়ের আনন্দ ঠিকমতো করতে পারছেন না ওঁরা। আমরা সবদিকে নজর রেখেছি। আমাদের স্পেশাল টিম রাখা হয়েছে। পুলিশকেও জানিয়ে রেখেছি। আশা করি সব ভালভাবে মিটে যাবে।
বন আধিকারিকের এই আশ্বাসেও দোলাচলে মণ্ডল পরিবার।
কলকাতায় 'রেফার' রোগের বলি যুবক, কুঁচকিতে চোট নিয়ে দিনভর শহর ঘুরে মৃত্যু এনআরএসে