
শেষ আপডেট: 11 April 2022 11:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছর জিরেন বছর, অর্থাৎ আমের ফলন কম, কিন্তু এবছরেরও দিল্লির আম উৎসবে (Mango Festival) লাইমলাইট কাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিষ্ণুপুরের গোঁসাইপুরের দুই ভাই। অমল রায় এবং কমল রায়। গত পাঁচ বছর ধরে দিল্লির এই আম উৎসবে রাজ্যের অন্যান্য জেলাকে পিছনে ফেলে সেরা হচ্ছে বাঁকুড়া (Bankura)। এই জেলার দু'তিনটি বাগানের আম এই উৎসবের অংশ হয়। তেমনই, একটি বাগানের মালিক অমল রায় ও কমল রায়।
এবারও এই আম উৎসবে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। নিজেদের বাগানের আম্রপালি আম পাঠান প্রতিবছর গোঁসাইপুরের 'রায়' পরিবার। এবারও সেই আম পাঠানোর বন্দোবস্ত শুরু হয়ে গেছে। স্বাদ, গন্ধ, আকার সবেতেই মন কাড়ে সাধারণ মানুষের। বাঁকুড়া সেখানে অন্যান্য জেলাকে বলে বলে গোল দেয়। সেই তালিকায় উল্লেখ্যযোগ্য হল 'রায় ব্রাদার্স'।
গোঁসাইপুরে তাঁদের ৩৫ বিঘা আমের বাগান। দিনরাত সেই আমবাগান পরিচর্যা করতেই সময় কেটে যায় তাঁদের। অমলবাবুর কথায়, ' আমাদের বাগানের আম জেলার সুনাম বাড়াতে সাহায্য করছে, তাতেই গর্বিত। তবে এবার বাগানের অনেক গাছেই মুকুল আসেনি। অনেক গাছে অনেক দেরিতে মুকুল এসেছে। তাই মরসুম শুরুর আগে থেকেই বাগানের পরিচর্যা শুরু করি আমরা।'
কীভাবে তাঁরা যত্ন নেন? প্রতিদিন গোটা বাগানের প্রতিটি গাছের গোড়ায় জল দেওয়া হয়। গাছে যাতে কোন পোকা না ধরে সেইদিকেও সজাগ দৃষ্টি থাকে অমল-কমলের। গোটা বাগানে ১২০০ আম গাছ আছে। তার মধ্যে ৯০০ টিই আম্রপালি। এমন স্বাদ কী করে আসে? অমলবাবু জানান, কাঁকুরে ও শুষ্ক মাটি হওয়ায় ড্রিপ ইরিগেশন খুব ভাল কাজ দেয়। রাসায়নিক সার ব্যবহার বন্ধ, তাতেও আমের স্বাদ বাড়ে।
বাঁকুড়ার জেলা হর্টিকালচার দফতরের অফিসার সঞ্জয় সেনগুপ্ত জানান, পরপর পাঁচ বছর দিল্লিতে আম উৎসবে আমাদের জেলা প্রথম। আমাদের জেলা থেকে অমলবাবুদের বাগানের আম বেশি পাঠানো হয়। যদিও দু'বছর এই উৎসব বন্ধ। এবছর তাই সুযোগ মেলায় ফের আম পাঠানো হবে ওই উৎসবে।