দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটপাথ দিয়ে আসছেন এক প্রৌঢ়। প্রথমে কেউ খেয়াল না করলেও, একটু পরেই সকলে চেঁচাচ্ছেন, সরে যান! সরে যান! এর পরেই ফুটপাথের ব্যক্তির পিছন-পিছন স্যানিটাইজার স্প্রে করতে করতে ঢোকানো হল হাসপাতালে। তিনি অবশ্য বলে বসলেন, 'এই তো এলাম'। বৃহস্পতিবার সকালে এমনই দৃশ্য দেখা গেল দক্ষিণ কলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতালে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আন্তঃমন্ত্রক টিমের প্রতিনিধিরা তখন এসেছিলেন হাসপাতাল পরিদর্শনে। একটি সূত্রের খবর, তখনই সকলের অগোচরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়েন করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক রোগী। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত কিনা জানা যায়নি। তবে একজন করোনা-আক্রান্ত রোগীর নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনা যায়। তিনিই ইনি কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেননি কেউ।

এ বিষয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। স্বাস্থ্য ভবনও কিছুই জানায়নি। কিন্তু করোনা ওয়ার্ড থেকে রোগীর বাইরে বেরিয়ে আসার অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমস্ত মহলই। কারণ সকলে যতই এড়িয়ে যান, একথা স্পষ্ট যে তিনি ভেতরেই ভর্তি ছিলেন। মুখে মাস্কও ছিল তাঁর, হাঁটাচলায় অসুস্থতা স্পষ্ট। তিনি এ-ও বলেন বলে শোনা যায়, "ভেতরে ভাল লাগছে না, মরে যেতে পারি।"
বিষয়টি কর্মীদের চোখে পড়তেই তাঁরা ছুটে গিয়ে ধরে আনেন রোগীকে। অভিযোগ, যদি ওই প্রৌঢ় করোনা ওয়ার্ডের রোগী না-ই হবেন, অথবা এখনই আসা নতুন রোগী হবেন, তাহলে কী করে কর্মীরা সকলে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন এবং স্যানিটাইজ় করতে করতে ফের হাসপাতালে ঢোকালেন তাঁকে!
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=NfmgcxhKUWo
আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অবশ্য ভোল বদলে গিয়েছে বাঙ্গুর হাসপাতালের। কেন্দ্রীয় টিম পরিদর্শনে আসা, সাম্প্রতিক একটি ভিডিও বাইরে বেরিয়ে যাওয়া, বা রাজ্য সরকারের সত্যিকারের সচেতনতা-- ঠিক কোনটার কারণে এই বদল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। সকাল থেকেই দেখা গেছে সমস্ত পুলিশ এন ৯৫ মাস্ক ও হেডশিল্ড পরে আছেন। এর আগে রুমাল বা কাপড়ের মাস্কই ছিল তাঁদের মুখে। গ্লাভসও পরতে দেখা গেছে আজই প্রথম।
শুধু তাই নয়। পরিষ্কারের ঘটাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্লিচিং ছড়ানো হচ্ছে হাসপাতাল চত্বর জুড়ে, অল্প সময়ের অন্তরে স্যানিটাইজার স্প্রে করে পরিষ্কার করা হচ্ছে, গ্রিল, গেট, রেলিং, গাছ-- সব। সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মী, নিরাপত্তরক্ষীরা পিপিই-সজ্জিত। জিন্স-স্নিকার্স পরা অনেককেও পিপিই পরে ঘুরতে দেখা গেছে, যাঁরা তৎপরতার সঙ্গে সমস্ত রোগী সামলাচ্ছিলেন। তাঁরা কারা, জানা যায়নি। নিরাপত্তাকর্মীরাও পিপিই পরা অবস্থায় ঘনঘন কথা বলছিলেন ওয়াকিটকি-তে।

সব মিলিয়ে বাঙ্গুরে অন্যান্য দিন যা দেখা যায়, তা আমূল বদলে গেছে। ইন গেটের সামনে রাখা ব্যারিকেড, ভিতরে ঢুকতে গেলে প্রত্যেকের পরিচয় জানতে চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এতকিছুর মধ্যেও কী করে একজন করোনা সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালের বাইরে চলে এলেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই গোটা ঘটনায় কোনও রকম মন্তব্যই করেননি। হাসপাতালের এক আধিকারিকের কথায়, "এতটা সচেতনতা প্রথম থেকেই ছিল, আজ বেশি করে চোখে পড়ছে।"