
শেষ আপডেট: 6 July 2022 07:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরাবরই মেধাবী সে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও দুর্দান্ত ফল ছিল তার। এই বছরের সর্বভারতীয় জ্যাম (JAM) পরীক্ষায় তার র্যাংক ৮০৯। মুম্বই আইআইটিতে (IIT) অঙ্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর করার স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছে সে। কিন্তু তার পরেও দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে বালুরঘাটের (Balurghat) দীপ দাস ও তার পরিবারের।
নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান দীপ। বাবা গোবিন্দ দাস ঠেলাওয়ালার কাজ করেন। মা কামনা দাস সকাল থেকে বেরিয়ে যান অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজে। বালুরঘাট শহরের খাদিমপুর বটতলা এলাকার শিবাজি কলোনীর বাসিন্দা দীপ ও তার পরিবারের এতদিনের বাস ছিল একটি টিনের ঘরে। সম্প্রতি সরকারি সাহায্যে কোনও মতে একটি পাকা ঘর বানানো গেছে। কিছুদিন আগেই তার বোনের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ছোট থেকেই দারিদ্র নিত্যসঙ্গী দীপের। সর্বভারতীয় জ্যাম পরীক্ষার ফি জোগাড় করতে হিমশিম খেয়েছিলেন দীপের বাবা মা। ধারদেনা করে কোনওমতে ফি-এর ১০,০০০ টাকা জোগাড় করা হয়। সেই টাকা শোধ হয়নি এখনও। এরপর আইআইটিতে পড়ার খরচ কীভাবে জোগাবেন, তা ভাবতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে গোবিন্দবাবু ও কামনাদেবীর।
মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল দীপের। তখন যদিও পাড়া প্রতিবেশী এবং স্কুলের শিক্ষকরা সাহায্য করেছিলেন। ছোট থেকেই কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না দীপের, বরাবরই বন্ধুদের থেকে বই ধার নিয়ে নোট তৈরি করে নিজেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। সেই পদ্ধতিতেই সাফল্যও মিলেছে। কিন্তু এরপর সুদূর মুম্বইতে থাকা এবং পড়াশোনার খরচ না জোগাড় হলে হয়তো বন্ধই হয়ে যাবে ছেলের পড়াশোনা, সেই চিন্তান্তেই এখন অকূল পাথারে দীপের বাবা মা। এই ব্যাপারে কোনও সহৃদয় ব্যক্তি কিংবা সংস্থা যদি এগিয়ে আসে, তাহলেই হয়তো একটু আশার আলো দেখবেন তাঁরা।
ভাটপাড়ায় বোমাবাজিতে জখম গরু! দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে তটস্থ বাসিন্দারা