দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলির প্রাক্কালে শনিবার আচমকাই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হলেন বিজেপি নেত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দু’ঘণ্টা তিনি ছিলেন পার্থবাবুর নাকতলার বাড়িতে। বেরনোর সময় সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, এমনিই আলাপচারিতা করতে এসেছিলেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এছাড়াও মিল্লি আল আমিন কলেজের সেই বিতর্ক এখনও জিইয়ে রয়েছে। সে বিষয়েও কিছু কথা হয়েছে তাঁর। আর পার্থবাবু বললেন, ওঁর থেকে আমি শোভনের খোঁজ নিয়েছি।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বন্ধু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন গত ১৪ অগস্ট। সেই সময়ে বৈশাখীদেবীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ ওঠায় মিল্লি আল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দেন বৈশাখীদেবী। সেই পদত্যাগপত্র অবশ্য গ্রহণ করেননি শিক্ষামন্ত্রী। বৈশাখীর উদ্দেশে তৃণমূলের মহাসচিবের পরামর্শ ছিল, “মাথা ঠাণ্ডা করো।” কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলে অসম্মানিত বোধ করছেন বলে অভিযোগ তোলেন শোভন-বৈশাখী। দেবশ্রী রায় ইস্যুতেও ক্ষুব্ধ হন তাঁরা। শোনা যায়, বিজেপিতে মোহভঙ্গ হয়েছে তাঁদের। যাননি নেতাজি ইন্ডোরে অমিত শাহের সভাতেও। যদিও দিন তিনেক আগে এক বিজেপি নেতার জন্মদিনের পার্টিতে দেখা গিয়েছিল শোভন-বৈশাখীকে।
এদিন আচমকা পার্থবাবুর বাড়িতে বৈশাখীদেবীর আগমন ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে কি ফের তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন তিনি? বৈশাখীদেবী এদিন বলেন, ‘পার্থবাবু এবং আমি দুজনেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। একই ক্ষেত্রের দু’জন মানুষ দেখা করতেই পারেন। আর কলেজের বিষয়টা এখনও সমাধান হয়নি। সেটা নিয়েও কথা হয়েছে।’ এটাও তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, তৃণমূল মহাসচিবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেটা রাজনৈতিক কারণে ভেঙে যাবে এমনটা নয়। তবে শোভনবাবু কোথায়, সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই তাঁর মন্তব্য, ‘ওঁর কথা উনি বলবেন। উনি দক্ষ রাজনীতিবিদ। উনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরুন সেটাই চাই।’
কিন্তু জল্পনা বাড়িয়েছেন পার্থবাবু। তৃণমূলের মহাসচিবের বক্তব্য, “আমি বৈশাখীর থেকে শোভনের কথা জানতে চেয়েছিলাম। ওঁর শরীর কেমন আছে খোঁজ নিয়েছি। অন্য দলে চলে গেলে কারও খোঁজ নেব না এই সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি না।” এরপরই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পার্থবাবু বলেন, “আমার সঙ্গে বৈশাখীর কী কথা হয়েছে, সবটা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলা সমীচিন হবে না।”
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/মায়ের-সঙ্গে-কথাবার্তা/