
শেষ আপডেট: 22 October 2022 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: কালীপুজোর (Kali Pujo 2022) দিনই ঠাকুর তৈরি হয়। মাটির সরায় ভোগ দেওয়া হয় বলির কাঁচা মাংস। পরের দিনই হয় বিসর্জন। বসিরহাটের (Basirhat) ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কৈজুরিতে সর্দার বাড়ির এই কালীপুজো ঘিরে মেতে ওঠে গোটা এলাকার মানুষ।
সাড়ে তিন'শ বছরে পা দিল সর্দার বাড়ির পুজো। জানা যায়, নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নায়েব কামদেব সর্দার ছিলেন এই বাড়ির সদস্য। তাঁকে এক'শ বিঘা জমি দান করেছিলেন রাজা। তারপর থেকে এখানে সর্দারদের জমিদারি শুরু। দুর্গাপুজো শুরু করতে চেয়েছিলেন কামদেব। কিন্তু স্বপ্নে কালীপুজো করার নিদান পান। তারপরেই সর্দার বাড়িতে কালীপুজো শুরু।
রীতি মেনে কালীপুজোর দিন তৈরি হয় কালীঠাকুর। একে একে ৭০ টা ছাগবলি হয় আজও। বলির কাঁচা মাংস দেবীকে নিবেদনের পরেই রান্না করে বিতরণ করা হয় গ্রামে। প্রথা মেনে এখনও এই সর্দার বাড়ির পুজো প্রথমে হয়। তারপরে শুরু হয় এই এলাকার অন্য পুজো। এখানে দেবীর কোনও মন্দির নেই। পুজোর দিনই ঠাকুর তৈরি হয়। আর পুজোর পরের দিনই হয় বিসর্জন।
সর্দার বাড়ির প্রতিমা বরাবর বিসর্জন হত বাংলাদেশের সোনাই নদীতে। এখনও সেই রীতি বজায় আছে। বিসর্জন দেখতে দুই বাংলার দর্শনার্থীরা নদীর দু'পাড়ে ভিড় জমান। একদিনের পুজো হলেও তাকে ঘিরে মেলা বসে। কালীপুজোকে ঘিরে সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একত্রিত হন। সব শ্রেণির মানুষ এখানে এসে মানত করে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন।
কালীপুজোয় গলদা চিংড়ির ভোগ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সাধের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে