
শেষ আপডেট: 8 September 2022 03:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাগুইআটি জোড়া খুন (Baguiati double murder) কাণ্ডে এবার আরও বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল। জানা গেছে, অতনু ও অভিষেককেই নয়, এর আগে দুজনেরই প্রতিবেশী (neighbour) এক যুবককেও খুন করতে চেয়েছিল সত্যেন্দ্র। এদিন সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আনলেন রাজদীপ ঘোষ নামের ওই যুবক। তবে তিনি জানিয়েছেন, নতুন বাইক দেখানোর নাম করে তাঁকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুনের ছক কষেছিল সত্যেন্দ্র।
রাজদীপ বলেন, 'সেদিন তারই এক কর্মচারী আমাকে মাথায় বাইকের সাসপেনশন পাইপ দিয়ে মারতে উদ্যত হয়েছিল। সেই ব্যক্তির নাম জানি না, তবে সত্যেন্দ্রর ব্যবসার জায়গায় ওকে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম। পিছন থেকে আমাকে কেউ মারতে আসছে, সেটা আঁচ করেই ঘুরে গিয়ে তাকে বাধা দিয়েছিলাম। কোনওক্রমে বেঁচে বাড়ি ফিরতে পেরেছিলাম সেদিন। তখনও বুঝিনি, অতনু আর অভিষেককে খুন করবে সত্যেন্দ্র। পুলিশে অভিযোগও জানাইনি। বড় ভুল হয়েছিল।'
জানা গেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারি মাসে। পাশাপাশি পাড়ায় থাকার সুবাদে সত্যেন্দ্রর সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল রাজদীপের। সত্যেন্দ্রর বাইকের পার্টস বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা থাকার জন্য তাঁর বাবার পুরনো বাইকটা ওর কাছেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। জানা গেছে, ২৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই বাইকটি কিনে অন্যত্র বেচে দেবে, বদলে দেবে নতুন বুলেট দেবে, এমনটাই বলেছিল সত্যেন্দ্র।
এরপর সেই যুবক বলেন, 'ওর কথা মতো পুরনো বাইকটি ওকে দিয়েছিলাম। কিন্তু বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও কিছুতেই টাকা দিচ্ছিল না। বারবার চেয়েও লাভ হয়নি। এরমধ্যেই জানতে পারি, আমার বাইক অন্য একজনকে বিক্রি করে দিয়েছে সত্যেন্দ্র। তারপরও টাকা না দেওয়ায় বাবা ওকে জিজ্ঞাসা করে, কেন টাকা দিচ্ছ না? জবাবে সে বলে, দিয়ে দেব।'
বাগুইআটির নিহতদের বাড়িতে সুজিত-পুলিশ কমিশনার, পরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে সেলিম-সুজন
'উত্তম কুমার করবে জোড়া খুনের তদন্ত?' সিবিআই চাই, দাবি শুভেন্দুর
কিছুক্ষণ থেমে রাজদীপ আবার বলেন, 'এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি আমায় ফোন করে চলন্তিকা ক্লাবের কাছে ওর ভাড়া বাড়িতে ডেকে পাঠায় সত্যেন্দ্র। বলে, নতুন কয়েকটা বুলেট এসেছে, দেখে যা। ওর কথা বিশ্বাস করে চলে যাই সেখানে। মাঝে টেবিল আর মুখোমুখি বসে মোবাইলের স্ক্রিনে বাইকের ছবি দেখতে থাকি আমি। হঠাৎ মনে হয়, পিছন থেকে একটা ছায়া আমার দিকে এগিয়ে আসছে। বিপদ আঁচ করেই ঘুরে গিয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বাধা দিই। সেই সময় হাতে চোট লাগে। ওটা ছিল বাইকের সাসপেনশন পাইপ। সেদিন কোনওরকমে ওখান থেকে নিজের জীবন বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম।'