
শেষ আপডেট: 9 September 2022 05:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে গ্রেফতার হল বাগুইআটি জোড়া খুন কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরী ওরফে জামাই। শুক্রবার সকালে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় (Baguiati Double Murder Case)। পুলিশ সূত্রে খবর, সত্যেন্দ্রর সঙ্গীদের জেরা করে তার সম্পর্কে মিলেছিল নানান তথ্য। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ধরা হয় জামাইকে।
জামাইকে গ্রেফতার করা একরকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সিআইডির কাছে। এদিন কাকভোরে হাওড়া স্টেশন কার্যত ঘিরে ফেলে সিআইডি ও বিধাননগর পুলিশের বিরাট টিম। সাবাই ছিলেন সাদা পোশাকে। কেউ ছিলেন ফুড প্লাজার সামনে আবার কেউ নিউ কমপ্লেক্স যাওয়ার ফুটপাথে।
সত্যেন্দ্র হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিধাননগর কমিশনারেটের সিটি অফিসে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে পেশ করা হবে অতনু দে ও অভিজিৎ নস্কর খুনের মূল অভিযুক্তকে।
বুধবার বাগুইআটি জোড়া খুনের তদন্তভার সিআইডিকে দিয়েছিল নবান্ন। তারপর থেকে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা জানতে পারছিলেন, সিম কার্ড বদল করে বারবার লোকেশন বদল করছে জামাই। নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে এদিন হাওড়া স্টেশনে জাল বিছিয়েছিল সিআইডি। তাতেই ধরা পড়ল সত্যেন্দ্র।
সিআইডি প্রাথমিকভাবে মনে করছে, অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল জামাই। এমনিতে এই সত্যেন্দ্র বিহারের লোক। আটের দশকের শেষ দিকে বাগুইআটি এলাকায় বসবাস করতে শুরু করেছিল সে। জানা গিয়েছে, বিহারে তার এক স্ত্রীও রয়েছেন।
সিআইডি কর্তারা বৃহস্পতিবারও জানিয়েছিলেন, খুনের মোটিভ এখনও কিছু স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখতে চাইছে, কী কারণে দুই কিশোরকে খুন করল সত্যেন্দ্র। এই নয় যে অতনু এবং অভিষেকের সঙ্গে হঠাৎ কোনও ঝামেলার জন্য খুন করা হয়েছে। কারণ দুই বাড়ির সঙ্গেই জামাইয়ের অনেকদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ইতিমধ্যেই বাইক কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকার বিষয় সামনে এসেছে। যা সত্যেন্দ্রকে দিয়েছিলেন অতনু। এখন দেখার সত্যেন্দ্রকে জেরা করে খুনের কারণ হিসেবে কী জানতে পারে সিআইডি।