
শেষ আপডেট: 3 May 2022 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুশির ইদে এবার আলো জ্বলল না বগটুইয়ে (Bagtui)। বরং স্বজনহারাদের শোকে ভারী হল গোটা গ্রামের আবহ। বাসিন্দাদের সিংহভাগ মুসলিম। তাই খুশির ইদের আগের দিন থেকেই মেতে ওঠে বগটুই। ইদের বিশেষ প্রার্থনা দিয়ে শুরু হয় দিন। লাচ্ছা সিমুইয়ের গন্ধে ম ম করে গ্রামের বাতাস। দাওয়াত নিতে আসা মানুষদের আনন্দে উদ্দীপনায় ইদে বরাবরই বগটুইয়ে অন্য ছবি।
কিন্তু এ বার সে সব কিছুই নেই। এমনকি রাস্তাঘাটেও মানুষ চোখে পড়েনি বিশেষ। সকালের তুমুল বৃষ্টিতে ব্যহত হয় ইদের বিশেষ নামাজও।
প্রতিবছর ইদের দিনে সম্মিলিত নমাজের পর খাওয়াদাওয়ায় মেতে ওঠেন মানুষ (Bagtui)। সন্ধে নামতেই গ্রামে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ বার সে সব কিছুই নেই। হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মৃতি বরং ঘুরে ফিরে আসছে মুখে মুখে। এতগুলি প্রাণ কীভাবে শুধু পুড়ে শেষ হয়ে গেল, সেই প্রশ্নই নতুন করে মনে আসছে এই বিশেষ দিনে।
এবার ইদে আনন্দ নেই, শুধুই হত্যাকারীদের সাজা দেওয়ার সঙ্কল্প আনিসের পরিবারে
স্বজন হারানো মিহিলাল শেখ বললেন, “চোখের সামনে পুড়ে মারা গিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সেই যন্ত্রণা আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। কী ভাবে এই খুশির দিন পালন করব আমরা? দোষীদের শাস্তি হোক, ইদের দিনে এটাই আমাদের কামনা।”
প্রতিবছর মায়ের টানে বগটুই (Bagtui) গ্রামে এসে ঈদ পালন করতেন আতাহার বিবির মেয়ে নুরেন্নেসা বিবি। বললেন, “এবারও এসেছি। কিন্তু নেই মা ও আমাদের নিকট আত্মীয়রা। যারা তাঁদের পুড়িয়ে মেরেছে তাদের যেদিন ফাঁসি হবে সেদিনই পালন করব খুশির ঈদ।”
মাসখানেক আগেই জীবন্ত অগ্নিদ্ধগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। রামপুরহাটে বগটুই গ্রামে উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের বদলা নিতেই গ্রামের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে ১০ জনকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আনন্দ নেই। আনন্দের খোঁজও করছে না কেউ। শুধু খুশির ইদেও শক্ত হচ্ছে গ্রামের বেঁচে যাওয়া মানুষগুলির চোয়াল। দোষীদের শাস্তিটুকু তো অন্তত হোক।
ঝকঝকে দুধসাদা দাঁতেই বাড়ে আত্মবিশ্বাস, দাগছোপ তুলুন ঘরোয়া উপায়ে