
শেষ আপডেট: 30 August 2023 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: চন্দ্রযান ৩-এর (Chandrayaan3) সফ্ট ল্যান্ডিং নিয়ে এখন বিজ্ঞানীমহলে চর্চার অন্ত নেই । পালকের মতো আলতোভাবে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে বিক্রম ল্যান্ডার। এই বিরল ঘটনা যাঁদের জন্য সম্ভব হয়েছে, সেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাদুরিয়ার গবেষক (Baduria ISRO Scientist) জয়ন্ত পাল। তাঁর এই সাফল্যের জন্য এবার তিনি ডাক পেয়েছেন ইসরোর সূর্য অভিযানের (Sun Expedition) প্রজেক্টে। ছেলের এমন সাফল্যে তাই খুশির বন্যা বইছে পাল পরিবারে।
অর্ধেন্দুবাবু জানান, 'ছোট থেকেই দেখেছি ছেলে টুকিটাকি জিনিস তৈরি করত। বাড়িতে কোনও ইলেক্ট্রিকের জিনিস খারাপ হয়ে গেলে সেটি তৈরি করার চেষ্টা করত। তা দেখেই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর ইচ্ছে ছিল। সামান্য উপার্জনের মধ্যেই ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে থাকি।'
গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করার পর আইআইটি খড়গপুরে পড়তে চলে যান। সেখান থেকে পাস করার পরেই ২০১৮ সালে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন ইসরোয়। তারপর ২০১৯ সালে চন্দ্রযান ২-এর প্রজেক্টে কারিগর হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই প্রজেক্টের পিছনে দিনরাত এক করে খাটলেও শেষ পর্যন্ত অভিযান সফল হয়নি। এই ব্যর্থতা ইসরোর অন্য বিজ্ঞানীদের মতোই তাঁকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। তাঁদের অদম্য জেদ অবশেষে সাফল্য এনে দিয়েছে।
মা আলপনা পাল জানিয়েছেন, 'ছেলেকে বহু আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে বড় করেছি। ছেলেবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। তাই ছেলে যাতে উচ্চশিক্ষিত হয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছি। ছেলের এই সাফল্য সেই সমস্ত কষ্টের ফল।'
চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্যের পর এবার আদিত্য এল ওয়ান প্রজেক্টের জন্য বাদুড়িয়ার গবেষক জয়ন্ত পালকে নির্বাচিত করেছে ইসরো। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে সূর্যের উদ্দেশে রওনা দেবে আদিত্য এল ওয়ান। তাই এখনও জয়ন্তবাবুর নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। এই প্রজেক্ট শেষ হওয়ার পরেই বাড়ি ফিরবেন ঘরের ছেলে জয়ন্ত পাল। তাই আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিকে তাকিয়ে রয়েছে রামচন্দ্রপুর গ্রাম।
আরও পড়ুন: দত্তপুকুর বিস্ফোরণে এনআইএ চাইল বিজেপি! কুণাল বললেন, শকুনের রাজনীতি হচ্ছে