দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমান নিউ নরমাল পরিস্থিতি উৎসবের এক অন্য চিত্র ফুটে উঠছে বাঙালি তথা দেশবাসীর কাছে। যেখানে নেই হই হুল্লোড়, আনন্দের সমাগম হচ্ছে নিচু সুরে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সবটাই এবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে।
এই নতুনত্বের মাঝেই সরহায় বা বাদনা পরবকে সামনে রেখে সেজে উঠছে জঙ্গলমহল। কাঁচা মাটির দেওয়ালে পড়ছে আলপনা আর খড়িমাটির প্রলেপ। আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে একের পর এক বাড়িতে রং-তুলিতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রকমের ছবি। মেদিনীপুর সদর ব্লকের হেতাশোল, পিডরাশোল, মালিয়াড়া-সহ জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলোতে রীতিমতো উৎসবের আমেজ। হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, গ্রামবাংলার নানা চিত্রকলা উঠে এসেছে সুখি, বাবু, সোনুদের হাতে আঁকা শিল্পে। হাতে হাত লাগিয়ে সেই উৎসবে নয়া মাত্রা দিচ্ছে মরমিয়া নামে এক সাংস্কৃতিক মঞ্চের সদস্যেরাও।

আদিবাসী সমাজের বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে বাদনা হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ পরব। পুরুলিয়া বাঁকুড়া পশ্চিম মেদিনীপুর সহ রাঢ বঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বাঁদনা পরব পালিত হয়ে আসছে কার্তিক মাসের শেষে কালীপুজোর সময়। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম-সহ বিহার, ঝাড়খণ্ড, আসাম, ত্রিপুরায় এই পরব পালিত হয় পৌষ সংক্রান্তিতে।

পাঁচ দিনের এই পরবে ধামসা মাদলের সুর আর নানা আদিবাসী রীতি রেওয়াজের মধ্যে দিয়ে সাঁওতাল সমাজের বিভিন্ন দেবতা (বঙ্গাদের) স্মরণ করা হয়। পাঁচ দিনের সরহায় পরবের শেষ অংশ হল সাঁকরাত অর্থাৎ বনদেবীর পুজো। পুজো উৎসবকে সামনে রেখে পাঁচ দিনই চলে গান নাচ। থাকে হাঁড়িয়া, মহুলের দেদার আয়োজন।

তবে এবার পরিস্থিতি একেবারেই অন্য। একের পর এক উৎসবে কার্যত বেড়ি পড়িয়েছে করোনা। তাই সেভাবে বাদনা পরবে না মাততে পারলেও রীতি মেনে গ্রামকেই সাজিয়ে তুলছে আদিবাসী মানুষেরা।