
শেষ আপডেট: 20 March 2023 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেকে এফডি ব্লকের ৩৮৮ নম্বর বাড়ি। তিনতলা বাড়ির একতলায় ঝাঁ চকচকে অফিস। তাতে প্রকাণ্ড এক সেগুন কাঠের দেরাজ। সেই দেরাজের তাকে তাকে ভাঁজ করা সব গোলাপি কাগজের বান্ডিল। একটা, দুটো, দশটা-বিশটা নয়—প্রায় চারশো ওএমআর শিট দড়ি দিয়ে গিঁট বেঁধে রেখে দিয়েছিলেন সদ্য গ্রেফতার হওয়া অয়ন শীল (Ayan Shil)। ইডি-ই দাবি করেছে অয়নের অফিস থেকে পুরসভায় নিয়োগের ৪০০ ওএমআর শিট মিলেছে। ভাবা যায়!
পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হয়েছিলেন ২৩ জুলাই সাত সকালে। ২২ জুলাই সাতসকালে পার্থর নাকতলার বাড়িতে ঢুকেছিল ইডি। পার্থকে নিয়ে বেরিয়েছিল পর দিন সকালে। তারপর গ্রেফতারির লাইন লেগে রয়েছে। তাও এই অয়ন শীল ওএমআর শিট কিন্তু সরাননি বা তা নষ্ট করেননি। যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন বান্ডিল বেঁধে।
শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক সরকার, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, মানিক ভট্টাচার্য, মানিকের বউ-ছেলে, প্রসন্ন রায়, তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়—গ্রেফতারের পর গ্রেফতার হচ্ছে অথচ অয়ন শীল কী অসম সাহসী, ওএমআর শিটের জায়গাও বদল করেননি।
অয়নের আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন হুগলির তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন কুন্তল ঘোষ। অনেকের মতে, শুধু অয়ন একা নন, কুন্তল-শান্তনুরাও বেশ সাহসী বটে। কারণ এত কিছু ধরপাকড়ের পরেও কুন্তলের শোয়ার ঘরের টেবিলের ড্রয়ারে পাওয়া গিয়েছিল তিনটি পেন ড্রাইভ। অন্তত ইডি সূত্রের কথা জানিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তেমনই দাবি করা হচ্ছিল।
নিয়োগ দুর্নীতি চক্রের ত্রিভূজ বলা হচ্ছে কুন্তল-শান্তনু-অয়নকে। তিনজনেই হুগলির ছেলে। দু’জন বলাগড়ের। অয়ন চুঁচুড়ার। কুন্তল-শান্তনুর গ্রেফতারির পরেও অয়ন সল্টলেকের অফিসে বসেছেন। কাজকর্ম করেছেন। কিন্তু ওএমআর শিট সরাননি। ইডি যেন সাজানো বাগান পেয়েছে হানা দিয়ে।
কুন্তলের কাছে গত ডিসেম্বরে হওয়া টেট পরীক্ষার ওএমআর শিট মিলেছিল। শান্তনুর সল্টলেকের অফিস থেকে মিলেছে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগের ওএমআর শিট। চুঁচুড়ার বাড়ি থেকে মিলেছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ওএমআর। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি আদালতে দাবি করেছে, বাংলার ৬০ পুরসভায় পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।
যার অর্থ পার্থ-অর্পিতা গ্রেফতারের পরেও অয়নরা হয়তো ডরাননি। হয়তো ভেবেছিলেন, কিচ্ছু হবে না। হয়তো তাই নির্লিপ্ত ছিলেন। নাকি অন্য কিছু? দেখা যাক, ইডি তদন্তে আর কী কী বেরিয়ে আসে।