
শেষ আপডেট: 14 January 2023 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আবাসের (Awas Yojana) টাকা মিলছে না, বৈদ্যবাটি (Baidyabati) পুর এলাকায় ঘর ভেঙে বিপাকে উপভোক্তারা। প্লাস্টিকের ছাউনিতে আশ্রয় নিয়েছেন কেউ। কারও ভরসা ক্লাব ঘর। সামর্থে কুলিয়েছে যাঁদের, তাঁরা উঠে গেছেন ভাড়াবাড়িতে।
বৈদ্যবাটি পুরসভা এলাকায় কারও ছ’মাস আগে, কারও আট মাস আগে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অভিযোগ, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর আর টাকা পাননি অধিকাংশ উপভোক্তা। নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি তৈরির ভিত কেটে প্রথম পর্যায়ের জিও ট্যাগিং করলে তবে মেলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। কিন্তু উপভোক্তারা সেই টাকা পাননি। ফলে, এই ঠান্ডায় কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে বৈদ্যবাটি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক গরিব মানুষকেই।
বৈদ্যবাটি পুরসভা সূত্রে খবর, পুর এলাকার গরিব মানুষদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সবার জন্য বাড়ি’ (হাউস ফর অল) প্রকল্প রয়েছে। বাড়ি তৈরির জন্য দেওয়া হয় ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপভোক্তাকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। বাকি টাকা কেন্দ্র চারটি কিস্তিতে দেয়। বৈদ্যবাটি পুরসভার ২৩ টি ওয়ার্ডে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে অনুমোদিত হওয়া মোট ৭২০ টি বাড়ি তৈরির কাজ চলছে এই প্রকল্পে। প্রথম কিস্তিতে উপভোক্তা পরিবারগুলি ৫০ হাজার টাকা করে পায়। তা দিয়ে বাড়ির ভিত পর্যন্ত কাজ হয়। তারপরে পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তিতে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। উপভোক্তাদের অভিযোগ আর কোনও টাকা না আসায় ৮-৯ মাস ধরে কাজ থমকে রয়েছে। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন তারা।
২০ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর লাহানগর কলোনির উপভোক্তা যমুনাবালা দাস বলেন, “৬ মাস হয়ে গেল, প্রকল্পের বাড়ি তৈরির জন্য ঘর ভেঙেছি। ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। ভিত পর্যন্ত কাজ হয়েছে। আর টাকা পাইনি। ক্লাব থেকে একটা ঘর দিয়েছে। সেই ঘরে দরজা নেই। পলিথিন টাঙিয়ে থাকছি। ছেলে-বৌমা-নাতিকে নিয়ে ক্লাবে দরমার ঘরে থাকি। শীতে খুব কষ্ট পাচ্ছি সবাই।”
এই ওয়ার্ডেরই আর এক বাসিন্দা নৃপেন দাস বলেন, “৫০ হাজার টাকা পেয়ে ঘর শুরু করেছি। তারপর থেকে আর কোনও টাকা ঢোকেনি। একটা বর্ষা কেটে গেছে। যেটুকু কাজ হয়েছে তাও নষ্ট হতে বসেছে। শীতে খুব কষ্ট পাচ্ছি।”
২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হরিপদ পাল বলেন, “এই ওয়ার্ডে অনেক গরিব মানুষের বাস। বাড়ি তৈরির টাকার জন্য ওরা রোজ আমার কাছে আসছেন। সমস্যার কথা পুরপ্রধানকে জানিয়েছি।”
পুরপ্রধান পিন্টু মাহাতো বলেন, “এই প্রকল্পে ১৪-১৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু কেন্দ্র যে ভাবে টাকা পাঠাচ্ছে, তা দিয়ে এত বাড়ি একসঙ্গে তৈরি করা সম্ভব নয়। কম টাকা আসায়, দ্রুত কাজ করা যাচ্ছে না। কাঁচাবাড়ি ভেঙে সেই জায়গায় ওই প্রকল্পের বাড়ি তৈরির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে উপভোক্তাদের। শীতে কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারিছি। খারাপ লাগছে।”
ঘরে ভাল লাগে না, লকডাউন থেকেই পালাই পালাই পেয়ে বসেছে কাঁকিনাড়ার ছাত্রকে