দ্য ওয়াল ব্যুরো : গাড়ি শিল্পে মন্দা আর বেশিদিন স্থায়ী হবে না। দেশ জুড়ে গাড়ির বিক্রি যখন তলানিতে তখন এমনই আশার কথা শোনালেন মারুতি সুজুকির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গব। ভারতের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা সংস্থার চেয়ারম্যান মনে করেন, এই শিল্পে মন্দা এখন শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। অদূর ভবিষ্যতে গাড়ির বিক্রি বাড়বে। ২০২১ সালের মধ্যে ফের গাড়ি শিল্পে বিকাশ হবে আগের হারেই।
মঙ্গলবার ভার্গব বলেন, আমাদের সংস্থায় ১৬ হাজার ৫০ জন স্থায়ী কর্মী আছেন। তাঁদের কাউকে ছাঁটাই করা হবে না। কিছুদিন আগেই মারুতি ৩ হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মীর কন্ট্রাক্ট রিনিউ করায়নি।
কোম্পানির এমডি ও সিইও কেনিচি আয়ুকাওয়া বলেন, অটোমোবাইল শিল্পে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত। ২০২০ সালে গাড়ি শিল্পে অনেকগুলি নতুন নিয়ম চালু হবে। আমাদের দেখতে হবে ক্রেতারা নতুন নিয়মগুলি কীভাবে নেন।
কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার এনডিএ সরকার আসার ফলে গাড়ি শিল্পের সুবিধা হবে বলে কেনিচি আয়ুকাওয়া মনে করেন। তাঁর কথায়, বছরের প্রথম কয়েক মাসে গাড়ির বিক্রি তেমন উৎসাহব্যঞ্জক ছিল না। কিন্তু এনডিএ ‘ঐতিহাসিক জনাদেশ’ নিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে যথেষ্ট। এতে ক্রেতাদের সুবিধা হতে পারে। তাতে হয়তো গাড়ি শিল্পে ফের বিকাশ শুরু হবে।
অটোমোবাইল শিল্পে মন্দার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বেশির ভাগ গাড়ি কেনেন মধ্যবিত্তরা। তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। গত কয়েক মাসে গাড়ি কেনার খরচ বেড়েছে। গাড়ির জন্য নানা নিরাপত্তা বিধি চালু হয়েছে। বিমার খরচও বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
গাড়ি বিক্রি কমার জন্য তিনি বর্ধিত রোড ট্যাক্সকেও দায়ী করেন। তাঁর কথায়, অটোমোবাইল শিল্পে যখন মন্দা চলছে, তখন ন’টি রাজ্য রোড ট্যাক্স বাড়িয়ে দিয়েছে। এই রাজ্যগুলিতে গাড়ি বিক্রির হার কমেছে সবচেয়ে বেশি। কারণ ওই সব রাজ্যে প্রতিটি গাড়ি কিনতে ৯৭ হাজার টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে।
কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন গাড়ি শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। কেনিচি আয়ুকাওয়া বলেন, অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি কয়েকটি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু একটা কথা বুঝতে হবে। ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্র বা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বিকাশ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের পলিসির ওপরে নির্ভর করে না। অনেক রাজ্যে আলাদা করে বাড়তি ট্যাক্স বসানো হয়। পেট্রলের ওপর অনেক রাজ্যই চড়া হারে কর বসিয়েছে।