দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কিছুদিন ধরেই চিড় ধরেছিল পুরোনো প্রেমে। তারই প্রতিশোধ নিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাবালিকাকে খুন করার চেষ্টা চালায় প্রেমিক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। পুলিশি সক্রিয়তায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে ওই মদ্যপ যুবককে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় অঞ্চলের কাঁঠালিয়া গ্রামে।
বুধবার ৯ই সেপ্টেম্বর সন্ধে সাতটা নাগাদ ১৪ বছরের এক কিশোরীর বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে খুন করার চেষ্টা চালান ওই কিশোরীর প্রেমিক আশফাক মোল্লা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙড়ের কাঁঠালিয়ার এক নাবালিকার সঙ্গে প্রায় দুবছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কাশিপুরের যুবক আশফাকের। গত ছয় মাস আগে সেই প্রেমসম্পর্কে চিড় ধরে। তারই জেরে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে আশফাক।
প্রতিশোধ নেওয়ার অভিসন্ধি নিয়েই এদিন মদ্যপ অবস্থায় নাবালিকা প্রেমিকার বাড়ি চড়াও হন ওই যুবক। সে সময় মেয়েটির বাড়িতে তার বোন ছাড়া বিশেষ কেউ ছিল না বলে স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে। ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়েই প্রেমিকাকে খুনের পরিকল্পনা করে আশফাক। তার সঙ্গে ছিল একটি ধারালো অস্ত্র। ওই অস্ত্র দিয়েই নাবালিকা প্রেমিকাকে নৃশংস ভাবে আঘাত করে জখম করে ওই যুবক।
অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন ওই কিশোরী। রক্তাক্ত নাবালিকা ও তার বোনের চিৎকার চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন পাড়া প্রতিবেশীরাও। লোক জড়ো হওয়ায় বিপদ বুঝে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন ওই মদ্যপ যুবক।
প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজনের সহায়তায় আহত মেয়েটিকে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় নলমুড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছেন। সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে মেয়েটি। তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবার সূত্রে খবর মিলেছে।
বুধবার মেয়েটির বাড়িতে তার মা বাবা কেউ ছিলেন না। কোন সময় বাড়ি ফাঁকা থাকবে, সে খবর আগেভাগেই সংগ্রহ করেছিল আশফাক। সেই সুযোগেরই সদব্যবহার করে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়েছে ওই যুবক, এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসীরা। ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাশিপুর থানার পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ মদ্যপ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত আশফাক মোল্লাকে। এদিন পুলিশের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে নেয় ওই যুবক। অপরাধবোধ থেকে সে নিজেই আত্মসমর্পণ করতে আসছিলো, পুলিশের কাছে এদিন এমনটাই দাবি জানায় অভিযুক্ত প্রেমিক।