
শেষ আপডেট: 12 December 2022 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: আশাকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বসিরহাটে ( Asha Worker Unnatural Death )। সেই আঁচ গিয়ে পড়েছে জলপাইগুড়িতেও। এই ঘটনার প্রতিবাদে জলপাইগুড়ির ( Jalpaiguri ) মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে বিক্ষোভ দেখালেন আশাকর্মীরা।
স্বরূপনগর থানার সারাফুল ডাকবাংলো গ্রামপঞ্চায়েতের সারাফুল বিশ্বাস পাড়ায় থাকতেন রেবা বিশ্বাস রায়। বছর উনচল্লিশের রেবাদেবীর স্বামী মারা গেছেন। এরপর বাপের বাড়িতেই থাকতেন। খরচ চালাতে আইসিডিএস কর্মীর কাজ করতেন রেবা।
রেবাদেবীর বোন অঞ্জলি মণ্ডল ও দাদা গোপাল বিশ্বাসের অভিযোগ, গত দুদিন আগে আবাস যোজনার ঘর সার্ভে করতে বেরিয়ে হেনস্তার শিকার হন তিনি। একদিকে গ্রামবাসীদের গালিগালাজ, অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন রেবা। সেকথা বাড়িতেও জানিয়েছিলেন। রেবাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখে তাঁকে চাকরি ছেড়ে দেওয়া পরামর্শ দেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু তার আগেই সোমবার সকালে বাড়ির পেছন কাঁঠাল গাছে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, বাসন্তীতে বিডিও অফিস ঘেরাও করে মহিলাদের বিক্ষোভ
পরিবারের লোকজনের দাবি, রবিবার সকালে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পারায় আত্মহত্যা করবেন বলে জানিয়েও ছিলেন রেবা। তাঁর এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন রেবার দাদা ও বোন।
পুলিশ সকালেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা । বিরোধীরা নিন্দায় সরব হয়েছে।
যদিও সারাপুর নির্মাণ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান অরুণ বিশ্বাস বলেন, ওই মহিলা তাঁকেও বেশ কয়েকদিন আগে সার্ভে নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি পুরো বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চাপের মুখে এমনভাবে ওই আশাকর্মী আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন, তা তিনি বুঝতে পারেননি। যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানছেন মৃত আশাকর্মীর পরিবার। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্বরূপনগর পুলিশ।