
শেষ আপডেট: 6 September 2023 06:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালে (Asansol district Hospital) ডিসচার্জ টিকিটে লিখে দেওয়া হয়েছিল, সদ্য মা হওয়া যুবতী এইচআইভি পজিটিভ। শুধুমাত্র সেই কারণেই হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা দুর্ব্যবহার করেন তাঁর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে। এমনকী, চিকিৎসার জন্য মহিলাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এইআইভি দেখার পর তাঁরা আর ভর্তি নিতে চাননি। এরপর ভিনরাজ্যের হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে দেখা যায়, আদৌ এইচআইভি পজিটিভ নন ওই মহিলা। জেলা হাসপাতালে ফের পরীক্ষা করানোর পরেও একই রিপোর্ট আসে (wrong HIV report)। এরপরেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন রোগিণী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকের তরফে।
সূত্রের খবর, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুর ব্লকের জেমারির বাসিন্দা ২৬ বছরের এক মহিলা পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতালে গত ৯ জুলাই সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হন। সেখানেই এক সন্তানের জন্ম দেন তিনি। ১১ জুলাই সদ্যোজাতকে নিয়ে তিনি সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। এরপর গত ২৫ অগস্ট সন্ধ্যা থেকে আচমকা রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে সদ্য মা হওয়া যুবতীর। সেদিনই রাত ন’টা নাগাদ তাঁকে ও তাঁর প্রায় ৭ সপ্তাহের শিশুকে নিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে যান তাঁর মা। সেখানে চিকিৎসক যুবতীকে পরীক্ষা করে গাইনোকোলজি ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন।
যুবতীর ভাইয়ের জানিয়েছেন, 'এরপর আমার বোনকে মা ওই ওয়ার্ডে নিয়ে ভর্তি করানোর জন্য নিয়ে যান। সেখানে এ্যাডমিশন টিকিট দেখেই সংশ্লিষ্ট নার্স কড়া ভাষায় ওঁদের বলেন “বসতে বলছি, চুপ করে বোসো। বেশি ডিস্টার্ব করবে না। এদিক-ওদিক ঘুরবে না। কাউকেই টাচ করতে হবে না।' এই অবস্থায় বোন ও মা বুঝতে পারছিলেন না, কেন তাঁদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হচ্ছে।'
এরপর বাড়িতে খবর দিলে যুবতীর পরিবারের একজন পুরুষ সদস্য জেলা হাসপাতালে আসেন। তাঁকে 'নিজের ইচ্ছায় রোগী নিয়ে যাচ্ছি' লিখে যুবতীকে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। অভিযোগ, তারপর জেলা হাসপাতালের তরফে যুবতীকে যে সরকারি ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তাতে বড় করে লেখা ছিল 'এইচআইভি পজেটিভ' (HIV positive)। মহিলার বাড়ির লোকজন বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ডের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা কিছু না বলেই চলে যেতে বলেন।
এরপর অসুস্থ মহিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় কুলটির এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে জেলা হাসপাতালের এই এইচআইভি পজিটিভ লেখা দেখার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি নিতে চায়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলে ২৭ অগস্ট ওই যুবতীকে নিয়ে যাওয়া হয় ঝাড়খণ্ডের রাঁচির রিমস হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক তাঁর ইউএসজি সহ অন্যান্য পরীক্ষা করে জানান, তিনি এইচআইভি পজিটিভ নন। তাঁকে ওষুধপত্র দিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বলেন চিকিৎসক।
শুধুমাত্র একটা ভুল তথ্যর জন্য একজন সদ্যোজাত সন্তানের মাকে যেভাবে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে হল চিকিৎসার জন্য, সেই হেনস্থার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগিণীর পরিবার। একই সঙ্গে হাসপাতালের এই ভুলের জন্য তাঁদের যে সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তা নিয়েও তাঁরা রীতিমতো দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জেলা হাসপাতালে চরম হয়রানি ও মহিলার মায়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ জানিয়ে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য সচিব থেকে শুরু করে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচের কাছে। সেই চিঠির ভিত্তিতে জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ গোটা বিষয়টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে পাঠিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ ইউনুস খান জানিয়েছেন, 'আমি অভিযোগ পেয়েছি। জেলাশাসকের কাছ থেকে চিঠি পেয়ে তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করে অবিলম্বে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করতে বলেছি। আমার কাছে দ্রুত ওই তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।' তিনি আরও জানিয়েছেন, দোষী প্রমাণিত হলে কেউ ছাড় পাবেন না।
ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে মানুষ খুনের সুপারি! অস্ত্র-সহ ক্যানিং পুলিশের জালে ১