দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়ির জনসভা থেকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির পার্টি মজলিস-ই-ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন তথা মিমের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মমতার বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগলেন হায়দরাবাদের সাংসদ ওয়াইসি।
গতকাল দিদি বলেছিলেন, "সংখ্যালঘুদের ভোট ভাগ করার জন্য একটা হায়দরাবাদের পার্টি ডেকে এনেছে। সেই পার্টিটা এখানে কয়েকটাকে জোগাড় করেছে। বিজেপি ওদের টাকা দেয়। বিহারেও ওরা তাই করেছে। ওরা বিজেপির বি-টিম।"
এদিন হায়দরাবাদে বসে মিম প্রধান মমতাকে উদ্দেশ করে বলেন, "ওয়াইসিকে টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারে এমন বান্দার এখনও জন্ম হয়নি। আমায় কেউ কিনতে পারবে না।"
তিনি আরও বলেন, "আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁর পার্টির নেতারা সব তাঁর দল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন। তাই এসব কথা বলছেন।" তাঁর কথায়, "বিহারে যে মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদেরও অপমান করেছেন।"
মমতা গতকাল বলেছিলেন, "বিজেপি হিন্দুদের ভোট নিয়ে যাবে। ওরা (পড়ুন মিম) মুসলমানদের ভোট নিয়ে চলে যাবে। আমি কি কাঁচকলা খাব?" এদিন ওয়াইসি বলেন, "সংখ্যালঘু ভোট কারও জমিদারি নয়!” তাঁর কথায়, "এত দিন আপনি শুধু মীরজাফরদের দেখেছেন। যাঁরা আপনার অনুগত হয়ে ছিলেন এবং শুধু নিজেদের কথাই ভেবেছেন। কিন্তু মুসলিমদের কথা আপনি আদতে ভাবেননি। তাঁদের প্রকৃত উন্নয়ন করেননি।”
আসাদউদ্দিন বলতে চেয়েছেন, সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের সম্পত্তি নয় যে অনন্তকাল ধরে তাঁদের ভোট পেয়েই যাবে। বাংলায় একটা সময়ে সংখ্যালঘু ভোটের সিংহভাগ ছিল বাম-কংগ্রেসের দখলে। কিন্তু এখন তাতে তৃণমূলেরই একচ্ছত্র আধিপত্য। এবার সেই ভোটে মিম থাবা বসাতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মিমের বাংলায় অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলের সর্বোচ্চ স্তরে আশঙ্কা রয়েছে। লোকসভা ভোটের পর থেকেই বাংলায় দৌত্য শুরু করেছিল মিম। উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় রাতারাতি ওয়াইসির কাট আউট ঝুলে গেছিল।
অনেকের মতে, ওয়াইসির পার্টি এখনও বাংলায় গা ঝাড়া দিয়ে নামেনি। তাতেই এই আকচাআকচি! ভরা ভোটের মরশুমে কী হবে বোঝাই যাচ্ছে।