দ্য ওয়াল ব্যুরো: রদবদলের সময়েই আন্দোলন অনুভূত হয়েছিল। মঙ্গলবার জেলা কমিটির বৈঠকের পর সন্দেহ তৈরি হল—হাওড়া তৃণমূলে কি ফাটল তৈরি হয়েছে?
কারণ, নতুন জেলা সভাপতি লক্ষ্ণীরতন শুক্লর ডাকা প্রথম বৈঠকে প্রাক্তন সভাপতি তথা অধুনা চেয়ারম্যান অরূপ রায় অনুপস্থিত। বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসা ইস্তক হাওড়ায় যিনি সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনিই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বৈঠক থেকে অনেক দূরে থাকলেন।
হাওড়া তৃণমূলে বিভাজন নিয়ে জল্পনা নতুন নয়। অরূপ রায় সভাপতি থাকাকালীন ইদানিং তাঁর ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকছিলেন ডোমজুড়ের বিধায়ক তথা বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তা নয়, সম্প্রতি অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে স্বজনপোষণের অভিযোগও এনেছেন রাজীব।
আর আজ দেখা গেল, একেবারে উল্টো ছবি। অরূপ রায় নেই। নতুন সভাপতি লক্ষ্ণীরতন শুক্লকে পাশে বসিয়ে বীরেন্দ্র সেহবাগের মতো ব্যাট চালাচ্ছেন রাজীব। কোনও বল মাটিতে পড়ছে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের স্ট্রেইট ব্যাটে জবাব দিচ্ছেন। আর যা দেখেশুনে অনেকের মনে হয়েছে, বলগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে অরূপ রায়ের দিকেই যাচ্ছে।
যেমন রাজীব বলেছেন, “এখানে কেউ একা দল চালাবে না। কারও একার সিদ্ধান্তে দল চলবে না। আমরা সমষ্টিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নেব”। বা এও বলেছেন, “আমরা একটা টিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিম।” প্রসঙ্গত, ঘরোয়া আলোচনায় রাজীবদের বরাবরের অভিযোগ, অরূপ রায় নিজের ইচ্ছামতো দল চালান।
সম্প্রতি সাংগঠনিক রদবদলের সময়ে অরূপ রায়কে হাওড়ার জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে লক্ষ্ণীরতন শুক্লকে সে পদে বসিয়েছেন দিদি। যিনি শুধু তরুণ নেতা নন, অবাঙালি মুখও বটে। একুশের ভোটের আগে হাওড়ার শহর এলাকায় যখন গেরুয়া প্রভাব বাড়ছে, তখন হতে পারে সে জন্যই এই কৌশলী পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে জেলার কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
সেই বদলের এদিন জেলা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে লক্ষ্ণীরতন শুক্লা, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও গুলশন মল্লিক, বৈশাখী ডালমিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক বৈঠকে লক্ষ্ণী অবশ্য বারবার বলেন, “অরূপ রায় স্যার আমাদের চেয়ারম্যান। আমরা ওনাকে নিয়েই চলব। ওনার মার্গদর্শন জরুরি”। কিন্তু অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠতেই থাকে। যেমন এই প্রশ্নও ওঠে, যে পার্টি অফিসে বসে এদিন বৈঠক হয়েছে সেটা তৃণমূলের অফিস নয়। অরূপ রায়ের ব্যক্তিগত অফিস। তা হলে কি নতুন জেলা অফিস তৈরি করবে তৃণমূল।
সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য লক্ষ্ণী দেননি। বরং রাজীব বলেন, “এই অফিসের ইতিহাস জানি না। কারও ব্যক্তিগত অফিস হলে তিনি ব্যবহার করতেই পারেন। তবে হাওড়া তৃণমূলের এতো খারাপ অবস্থা হয়নি যে একটা অফিস তৈরি করতে পারবে না”।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সামগ্রিক এই ছবিতেই স্পষ্ট জেলা সংগঠনে একটা চোরাস্রোত কাজ করছে। কারণ, জেলায় চেয়ারম্যানের পদটি অনেকটা বৃদ্ধাশ্রমের মতোই। তাতে অরূপবাবু খুশি নাও হতে পারেন। তাঁর অনুগামীরাও হয়তো অনেকেই অখুশি। তবে এও ঠিক, প্রথম দিনের ছবি দেখেই উপসংহার টানা ঠিক হবে না। বরং আগামী দিনে তা কী চেহারা নেয় সেটাই দেখার।