তৃণমূলের আরও এক বিধায়ক বিজেপিতে, কংগ্রেসের টিকিটে জেতা অরিন্দম এখন গেরুয়া সৈনিক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের টিকিটে জেতা আরও এক তৃণমূল বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে। বুধবার নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দফতরে গেরুয়া শিবিরে শামিল হলেন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত থেকে পতাকা নেন
শেষ আপডেট: 20 January 2021 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের টিকিটে জেতা আরও এক তৃণমূল বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে। বুধবার নয়াদিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দফতরে গেরুয়া শিবিরে শামিল হলেন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত থেকে পতাকা নেন তিনি। তারপর সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তীব্র সমালোচনায় মুখর হন এই তরুণ নেতা।
ষোল সালে বিধানসভা ভোটের আগের ঘটনা। পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায় ভবা পাগলার উত্সব হয়। সেখানে গঙ্গা পেরিয়ে বহু মানুষ আসেন নদিয়ার শান্তিপুর থেকে। প্রায় দেড়শ যাত্রী নিয়ে একটি নৌকো ডুবে গেছিল শান্তিপুর ঘাটে।
তখন শান্তিপুরে অরিন্দম ভট্টাচার্য লড়ছেন বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে, হাত চিহ্নে। সামনে ভোট। এমন দূর্ঘটনায় কী আর প্রার্থীর বিলাসিতা মানায়! তরুণ অরিন্দম পৌঁছে গিয়েছিলেন গঙ্গার ঘাটে। সঙ্গে বাম কংগ্রেস কর্মীরা। তারপর পুলিশের ব্যাপক লাঠির বাড়ি পড়েছিল অরিন্দমের পিঠে। জামা খুলে পিঠের সেই চাপ চাপ জমাট রক্তের দাগ সাংবাদিকদের দেখাতে দেখাতে অরিন্দম বলেছিলেন, দেখুন দেখুন রাজ্য সরকারের পুলিশের নির্মমতা! মানুষের বিপদে সাহায্য করতে এসেও মার খেতে হয়।
যা না অরিন্দমের পিঠে লেগেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি লেগেছিল মনে। এতটাই যে, এপ্রিল মাসে মার খেয়ে নভেম্বর মাসে সন্তোষ পাঠকের কালী পুজো উদ্বোধন করতে এসেও সে কথা বলেছিলেন তখন কংগ্রেসে থাকা বিধায়ক।
তারপর সেই তিনিই যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। বিধানসভা ভোট যখন দুয়ারে তখন সেই অরিন্দম এবার বিজেপিতে।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অরিন্দম বলেন, "আমি পেশা ছেড়ে রাজনীতি করতে এসেছি অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে। তা হল যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, বেকারত্ব ঘোচাতে শিল্পায়নের স্বপ্ন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় সেসব কিছুই হয়নি। তাই আমি মোদীজির দিশায় চলতে চেয়েই ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলাম।"
দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অরিন্দম। তাঁর কথায়, "একদিকে শিল্প নেই অন্যদিকে চাকরি পেতে গেলে ঘুষের রমরমা চলছে। বাংলায় যে ভাবে দুর্নীতি হচ্ছে তা অতীতে কখনও হয়নি।" সেই সঙ্গে অরিন্দমের আহ্বান, বাংলাকে বাঁচাতে হলে বিজেপিতে আসুন, মোদীজির হাত শক্ত করুন।
এদিন কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, এটাই হওয়ার ছিল তৃণমূলের। লোভ দেখিয়ে অন্য দল ভাঙালে নিজেকেও ভাঙনের মুখে পড়তে হয়। দিদিকে এমন আরও অনেক কিছু দেখতে হবে।