দ্য ওয়াল ব্যুরো: একসময় ন্যাশনাল টেক্সটাইল কর্পোরেশন বা NTCL এর অধীনে সারাদেশে ২৩ টি কটন মিল ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হাওড়ার আরতি কটন মিলটি। কিন্তু ধীরে ধীরে সবকটি মিল বন্ধ হয়ে যায়। কোনরকমে চালু ছিল আরতি কটন মিল। কিন্তু লকডাউনে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে অধীর চৌধুরী তৎকালীন বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির সঙ্গে দেখা করে মিলটি পুনরায় চালু করেন।
যদিও তার পরেও মিলটি পুরোপুরি খোলেনি। মাত্র তিনটি মেশিন চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেটি কমতে কমতে মাত্র একটি মেশিন এসে ঠেকেছে। বলতে গেলে একরকম ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে আরতি কটন মিল।
এখন মাত্র ৪৪৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। তার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক স্থায়ী কর্মী। বাকিরা সকলেই ঠিকাদারের অধীনে কাজ করেন। কিন্তু এই কর্মীরাও পুরো মাসের মাইনে পান না। অভিযোগ, তাঁরা মাস গেলে কেউ ১৫ দিন, আবার কেউ ১২ দিনের বেতন পান।
এই পরিস্থিতিতে আরতি কটন মিল-সহ NTCL এর অধীনে থাকা সবকটি কটন মিল চালুর দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই নিয়ে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন অধীর চৌধুরী। গত ২৭ নভেম্বর তিনি কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে একই দাবিতে চিঠি লেখেন। ৩০ নভেম্বর একই পথে হেঁটে বস্ত্রমন্ত্রী ক চিঠি লেখেন হাওড়ার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে এই বিষয়ে মুখোমুখি কথাও বলেছেন।
আরতি কটন মিল পুনরুজ্জীবনের দাবিতে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসির সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই করছে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলো। বর্তমানে এই লড়াইয়ে সামিল হয়েছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি।
NTCL এর অধীনস্থ সবকটি কটন মিল চালুর দাবিতে এবার দিল্লিতে দরবার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা সেখানে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি বাকি রাজ্যের শ্রমিক নেতার সঙ্গেও কথা বলবেন। উদ্দেশ্য হাওড়ার আরতী কটন মিল সহ দেশের বাকি ২২ টি কটন মিলকে পুনরুজ্জীবিত করা।
সব দল একজোট হয়ে কোমর বেঁধে নামায় সাধারণ শ্রমিকরা আশার আলো দেখছে। তাঁদের দাবি সরকার একবার সুযোগ দিক, মিল ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে।