
শেষ আপডেট: 10 April 2023 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বালুরঘাটের দণ্ডিকাণ্ড নিয়ে যখন গোটা রাজ্য তোলপাড়, তখন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ (Aparupa Poddar) দাবি করলেন, তাঁদের দলের একটা গাইডলাইন আছে। তৃণমূলে (TMC) ফিরতে গেলে প্রায়শ্চিত্ত করেই ফিরতে হবে।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অপরূপা বলেন, ‘‘২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর খানাকুলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছিলেন বিপ্লব দাস। মাথা মুড়িয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে তবেই তৃণমূলে ফিরেছিলেন তিনি। তবে মাথা মুড়িয়ে তাঁরা যে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন তা স্বেচ্ছাতেই করেছিলেন তাঁরা।’’
সাংসদের বক্তব্য, ২০২১ সালে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁদের ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দিনাজপুরেও একই ঘটনা ঘটেছিল। যারা গিয়েছিলেন তারা ভুল বুঝে গিয়েছিলেন। কাজেই ফেরার সময় প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। এটাই দলের রীতি। কেউ জোর করেনি।
অপরূপা যখন এই সব দাবি করছেন, তার ২৪ ঘণ্টা আগেই বালুরঘাটের ঘটনা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁর পৌরোহিত্যে চার আদিবাসী মহিলা দণ্ডি কেটে তৃণমূলে ফিরেছিলেন, সেই মহিলা তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন মমতা।
অপরূপার সম্ভবত তা গোচরে ছিল না। দলের এক নেতার কথায়, বালুরঘাটের ঘটনা নিয়ে দিদির পদক্ষেপ জেনেও অপরূপা যদি একথা বলে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে ওঁ অসীম সাহসী।
বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে প্রায় দুশোজন তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগদান করেন। বৃহস্পতিবার তাঁদেরই মধ্যে চার মহিলা তৃণমূলে ফেরত আসেন। দেখা যায় বালুরঘাট কোর্ট মোড় থেকে কাঁঠালপাড়ায় তৃণমূল জেলা কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কেটে আসছেন তাঁরা। তারপরে তৃণমূল অফিসে এলে তাঁদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।
ওই মহিলারা জানান, তৃণমূল ছেড়ে ভুল করেছেন। তাই প্রায়শ্চিত্ত করেই দলে ফেরা। কেউ তাঁদের জোর করেনি। কিন্তু জোর না করলেও কীভাবে দল এই কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, ‘‘চাপে পড়ে দুশোজনের মধ্যে তিন-চারজনকে ফিরে গেছেন। যেভাবে তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা খুবই লজ্জাজনক।’’
পঞ্চায়েতে জবরদস্তি নয়, বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে না পারলে দেখবে তৃণমূল নেতৃত্ব: অভিষেক