
শেষ আপডেট: 10 August 2023 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ অগস্ট , ২০২২। তখনও তিনি মুক্ত। বৃহস্পতিবার নিজের গ্রেফতারির ঠিক এক বছরের মাথায় তিহাড় জেল থেকে আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারকের সঙ্গে একেবারে চোখে চোখ রেখে কথা বললেন তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতি। আইনজীবী থাকলেও এদিন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) নিজেই বিচারকের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বিচারককে অনুব্রত বলেন, “শুনছি আমার কেসটা দিল্লি চলে যাবে? আমরা বাংলার মানুষ, আমাদের বাড়ি বাংলায়। সাক্ষী সহ সবার বাড়ি বীরভূম জেলায়। আমরা দিল্লি যাব কেন?” বিচারক বলেন, “দিল্লিকোর্ট বলেছে, চার মাস আপনাকে ওখান থেকে রিমুভ করা বা সরানো যাবে না। তাই এখন ওখানেই থাকতে হবে।” নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে যাওয়া যাবে কি না, এদিন বিচারকের কাছে জানতে চান কেষ্ট মণ্ডল।
অনুযোগের সুরে বিচারকের উদ্দেশে তৃণমূল নেতা বলেন, “সাহেব, আমার সব অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ আছে। একটা অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দিন। লেবার পেমেন্ট হচ্ছে না। বেতন বোনাস কিছুই দিতে পারছি না।” বিচারক বলেন, ‘আপনার মুখের কথায় এটা সম্ভব নয়। আইনজীবী মারফত আবেদন করুন।’
আসানসোল সিবিআই আদালত সূত্রের খবর, এদিন বেশ খোশমেজাজেই দেখা গিয়েছে বীরভূমের তৃণমূল নেতাকে। তবে আগের তুলনায় তাঁর শরীরটা একটু রোগা হয়েছে। শুনানি শুরুর পর এই বিষয়ে বিচারক জানতে চাইলে কেষ্ট মণ্ডল বলেন, “হ্যাঁ সাহেব, রোগা হয়ে গেছি। শরীরের রোগগুলো তো সবই রয়েছে।” ‘ইনহেলার নিচ্ছেন কিনা’, বিচারকের প্রশ্নের জবাবে অনুব্রত বলেন, “ইনহেলার ও নেবুলাইজার দুটোই নিচ্ছি।”
গত ৩০ জুন ও ১৪ জুলাই অনুব্রত ও সায়গলের ভার্চুয়াল শুনানির কথা থাকলেও তিহার জেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগই করা যায়নি। পরপর দুদিন তাদেরকে হাজির না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আসানসোলের বিচারক। তিনি জরুরি ভিত্তিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ১০ অগস্ট অনুব্রত ও সায়গলকে হাজির করানোর। সেই মত দেখা যায়, এদিন তিহার জেল কর্তৃপক্ষ আসানসোলে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতকে নতুন লিঙ্ক পাঠিয়ে তড়িঘড়ি ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করেন। এদিন শুনানির সময় বেলা ১২টা থেকে হওয়ার কথা থাকলেও, ১১ টা ৪০ নাগাদ ভার্চুয়াল শুনানি শুরু হয়ে যায়। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
আরও পড়ুন: শিবঠাকুরের বৌ পঞ্চায়েত প্রধান হলেন, কেষ্টর দিল্লি যাত্রা আটকানোর পুরস্কার!