দ্য ওয়াল ব্যুরো: সর্বভারতীয় রাজনীতি তো বটেই, বাংলার রাজনীতিতেও এক সময়ে ভোটের প্রচারে কিংবদন্তী সব স্লোগান লেখা হত। শুধু কি স্লোগান! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সময়ে প্রচারের বক্তৃতায় নানা রকম ছড়া কাটতেন।
ইদানীং সে সব স্লোগান দেখা যায় না। পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে ডায়লগ! যার মধ্যে আবার অনুব্রত মণ্ডল বলিউডের প্রয়াত কাদের খানের মতো, হয়তো বা কাদের খানের থেকেও এক দাগ উপরের ডায়লগ লিখতে পারেন—‘চড়াম, চড়াম, শুটিয়ে লাল, রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে রয়েছে ইত্যাদি প্রভৃতি।’ অনুব্রতবাবুর বিরুদ্ধে জেলার রাজনীতিতে যতই সন্ত্রাসের অভিযোগ থাক, বাইরের লোকজন সে সব শুনে কেউ হাসেন, কেউ সমালোচনা করেন, কেউ বা আবার অপশব্দ বলেও গালমন্দ করেন।
সে যাক। শনিবার দুপুরে এ হেন অনুব্রত মণ্ডল নাকি বলেছেন, রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে দলে নেবেন বলে ভাবছেন! দল মানে তৃণমূল। কিন্তু তার আগে শুদ্ধ করতে হবে। অনুব্রতর কথায়, “বাংলায় সবথেকে বড় ভাইরাস হল দিলীপ ঘোষ। সুতরাং তাঁকে দলে নিতে গেলে ডোবা জলে স্নান করিয়ে, স্যানিটাইজ করিয়ে, তার পর দলে নেওয়া হবে।”
এদিন অনুব্রত এ সব প্রস্তাব নিয়ে দিলীপ ঘোষের প্রেস কনফারেন্সে আবার প্রশ্ন উঠেছিল। শোনা মাত্র রাজ্য বিজেপি সভাপতি হেসে বলেন, “এর আগে অনুব্রত বলেছিলেন, আমি বীরভূমে গেলে ঢাক বাজাবেন। আমি বলেছিলাম, উনি ঢাক বাজালে আমি ধামসা নিয়ে যাব। অনুব্রতও ঢাক বাজাননি। আমিও ধামসা নিয়ে যাইনি।”
এটা ঠিক যে অনুব্রতবাবু আগে যতটা গরম গরম কথা বলতেন এবং যত ঘনঘন বলতেন এখন ততটা বলেন না। তা নিয়েও নানা কথা রয়েছে রাজনীতিতে। কেউ বলেন, দিদি বারণ করেছেন, কেউ বলেন স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে কিছু মনমরা, কেউ আবার প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ রয়েছে বলে জল্পনা করেন।
এদিন দিলীপবাবু সে প্রসঙ্গ টেনেই বলেন, “অনুব্রতর ভলিউম এমনিতেই কমে গেছে। স্পিকারের কানেকশনও কেটে যাবে।” তাঁর কথায়, আসলে তৃণমূল নেতারা এসব ফাঁকা আওয়াজ দিয়েই থাকেন। কারও দম নেই। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একবার বললেন, ওনার এলাকায় গেলে হাত পা ভেঙে দেবেন। একদিন গেলাম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করলাম। আমার হাত-পা ভাঙবে কি, বালুদাকে খুঁজেই পেলাম না।