দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের পর তাঁকে বিশেষ কথা বলতে শোনা যায়নি। দলের হারের ধক্কার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও বিব্রত ছিলেন। কিন্তু ফের নিজের ফর্মে ফিরলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।
তাঁর কর্মিসভায় প্রকাশ্যেই উঠে গেল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে বাড়ি তৈরি করার কাটমানির টাকা। শেষমেশ প্রকাশ্যে কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে অনুব্রত বললেন, জাল নোট কাণ্ডে ফাঁসিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে দেবেন।
রবিবার বীরভূমের দুবরাজপুর পৌরসভা মাঠে দুবরাজপুর ব্লকের কর্মীদের নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুব্রত মণ্ডল-সহ জেলা নেতৃত্বের প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন সেখানে। এই সম্মেলনে খয়রাশোল ব্লক নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই নেতৃত্বের মধ্যে গোলমাল বেঁধে যায় আচমকা৷
অনুব্রত মণ্ডল কর্মীদের জিজ্ঞেস করেন, লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের এলাকায় তিনি হেরে গেলেন কেন। এর পরেই কোনও নেতা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ তোলেন, কেউ আবার নেতার বিরুদ্ধে বাড়ি তৈরি করতে কাটমানির টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। একের পর এক অপ্রীতিকর তথ্য উঠে আসে এর পর। শেষমেশ কর্মীদের সরাসরি হুমকিই দিয়ে বসেন অনুব্রত মণ্ডল।
তিনি সরাসরি বলেন, "যারা টাকা নিয়েছে তাদের সবার নামে থানায় কেস করো। এসপিকে বলে আমি তুলিয়ে দেব। সবকে জাল নোটের কেস দেব, যাতে তিন বছর বেরোতে না পারে।"
এই হুমকির পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এক দিকে যেমন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, কাটমানির টাকা নিয়ে বিড়ম্বনায় অনুব্রত। অন্য দিকে আবার বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে, এই ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে জেলা তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। এটাও প্রমাণিত যে, জেলায় বাড়ি তৈরি করতে তৃণমূল কাটমানি নিয়েছে।
শুধু তাই নয়। দলের অন্দরেই আলোচনা ঘনিয়েছে, যে অনুব্রত মণ্ডল স্পষ্ট করে দিলেন যে পুলিশ তাঁর কথায় ওঠে বসে। তাই তিনি প্রকাশ্যে বলতে পারছেন, "অ্যারেস্ট করিয়ে দেব, জাল নোটের কেস দিয়ে দেব।"