দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীদের দাবি তো ছিলই। ভোটের দিন তিনি যেন সারা ক্ষণ নির্বাচন কমিশনের আতস কাচের নীচে থাকেন, তার দাবি জানিয়েছিল ভোটকর্মীরা। কমিশন সেই দাবিতে মান্যতা দিয়ে রবিবারই জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে, নজরবন্দি রাখতে হবে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টকে। কিন্তু কমিশনের এই সিদ্ধান্তে যে দিদির অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা একটুও বিচলিত নন, তা বুঝিয়ে দিলেন রাতেই। কমিশনের এই নজরবন্দি করাকে পাগলামি বলেও কটাক্ষ করলেন কেষ্ট।
দুবরাজপুরে তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে অনুব্রত মণ্ডল বলেন,"কী হবে ভোটের দিন নজরবন্দি করে! ভোটের দিন আমি পার্টি অফিসে থাকি। ভোট আগেই হয়ে গিয়েছে। বোলপুরে ছ'লাখ আর বীরভূম লোকসভা পাঁচ লাখ ভোটে জিতে গিয়েছি।" তাঁর নকুলদানা আর পাচন তত্ত্ব নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম হইচই হয়নি। নকুলদানার জন্য নোটিসও ধরিয়েছিল কমিশন। কিন্তু কেষ্ট যেন কিছুরই তোয়াক্কা করেন না। নজরবন্দি ঘোষণা হওয়ার পর নকুলদানাতেই ফিরতে চাইলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা। স্পষ্ট বলে দিলেন, "ভোটের দিন বুথে বুথে নকুলদানা আর পাচন থাকবে। কোনও চিন্তা নেই।"
রাতে বোলপুর নিচুপট্টির বাড়িতে ফেরেন কেষ্ট। সেখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "আমি ওই সব নজরবন্দি ফজরবন্দি মানি না। যত্তসব পাগলামি!" কমিশন তাঁর মোবাইলে কথায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে তিনি যেখানে যেখানে যাবেন, পুরোটা ভিডিয়োগ্রাফি করার। এ প্রসঙ্গেও প্ল্যান বি রেডি অনুব্রতর। জানিয়ে দিলেন, "নিজের মোবাইল ব্যবহার করতে পারব না তো কী হয়েছে! ল্যান্ডলাইন তো আছে।" নাম না করে কমিশনের উদ্দেশে ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল জেলা সভাপতি। তাঁর কথায়, "গ্রামে গিয়ে খোঁজ নাও। হিম্মত থাকলে গ্রামে যাও।"
বোলপুরের তৃণমূল পার্টি অফিস থেকেই কন্ট্রোল রুম চলবে অনুব্রতর। বীরভূম তৃণমূলের একটি সূত্রের মতে, ভোটের পুরোটা দেখভাল করবেন তৃণমূল নেতা অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানা। ভায়া রানা খবর যাবে কেষ্টর কাছে। তার পরে কেষ্টবাবু আবার রানাকে বলে দেবেন, কোথায় কী করতে হবে। রানা আবার সেই বার্তা পৌঁছে দেবেন ব্লক সভাপতি ও অঞ্চল সভাপতিদের।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন একবার বলেছিলে, সফল কোচ তিনিই, যাঁর রিজার্ভ বেঞ্চ সবসময় তৈরি থাকে। সব দেখে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, অনুব্রতও রিজার্ভ বেঞ্চ রেডি রেখে দিয়েছিলেন। এখন দেখার সোমবার সকাল থেকে কী কী হয় লালমাটির জেলায়।