
শেষ আপডেট: 5 May 2023 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকে বলতেন, অনুব্রত মণ্ডল সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত শুধু সংগঠনটাই করতেন। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলতেন, সংগঠন ছাড়া আর কোনও কিছুতেই তাঁর ধ্যান জ্ঞান ছিল না। কিন্তু ইডি অনুব্রতর বিরুদ্ধে যে চার্জশিট (Anubrata Mondal ED Charge sheet) পেশ করেছে তা দেখে অনেকে বলছেন, দিনের একটা বড় সময় অনুব্রত যদি কালো টাকা সাদা করার ছক তৈরি ও ছক বদলে মন না দিতেন তাহলে এই জিনিস হতে পারে না।
কী বলছে ইডির চার্জশিট?
কেন্দ্রীয় এজেন্সির চার্জশিটে বলা হয়েছে, নানান কাজের লোককে পাকড়াও করেছিলেন কেষ্ট। প্রভাব খাটিয়ে, ভয় দেখিয়ে তাঁদের এই কাজ করানো হয়েছিল। সেইসঙ্গে ছিল কমিশনের প্রলোভনও।
ইডি তাঁদের চার্জশিটে বলেছে, শান্তনু মজুমদার নামের এক প্রোমোটারকে এই ছকে ব্যবহার করেছিলেন বার কয়েক। কী করানো হয়েছিল তাঁকে দিয়ে? জানা গিয়েছে, শান্তনুকে কখনও ৮০ লক্ষ টাকা আবার কখনও এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল নগদে। তারপর তাঁকে বলা হয়েছিল, কমিশনের টাকা কেটে নিয়ে বাকি টাকা যেন ব্যাঙ্কের মারফৎ অনুব্রতর অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। বেশ কয়েকবার তা হয়েছিল বলেও দাবি ইডির।
এরপর অনুপম চট্টোপাধ্যায় নামের এক এলআইসি এজেন্টকে ধরেন কেষ্ট। ইডি জানিয়েছে, অনুপমকে জেরা করে জানা গিয়েছে, একবার লাখ দশেক টাকা নগদে তাঁকে দিয়েছিলেন অনুব্রত। জানান, এলআইসির একটি বিমা করবেন তিনি। অনুপম ইডির কাছে নাকি দাবি করেছেন, দু’দিন পরেই অনুব্রত তাঁকে জানান বিমা করবেন না। ওই ১০ লক্ষ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা কেটে তা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার করার কথা বলেন। চাপের মুখে তা করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে ইডিকে বয়ান দিয়েছেন অনুপম।
এখানেই শেষ নয়। বোলপুর নিচুপট্টিতে বিজয় রজক নামের এক সবজি বিক্রেতা রয়েছেন। কেষ্টর বাড়িতে তিনিই রোজ সবজি দিতেন বলে জানা গিয়েছে। সেই আনাজ বিক্রেতার অ্যাকাউন্টেও কালো টাকা সাদা করার জন্য বহুবার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির।