দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার উত্তর চব্বিশ পরগনায় চারটি পুরসভা দখল করার পর, অনেকে মনে করেছিল এ বার বুঝি নদিয়া।
কিন্তু না! বুধবার অনুব্রত মণ্ডলের গড় বীরভূমে বড় ধাক্কা দিলেন মুকুল রায়। লাভপুরের তৃণমূল সাংসদ মনিরুল ইসলাম, জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি গদাধর হাজরা, যুব নেতা মহম্মদ আসিফ ইকবাল-সহ চার জন নেতা বিজেপি-তে যোগ দিলেন। এ দিন দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন তাঁরা।
লোকসভা নির্বাচনে বীরভূমের দু'টো আসনেই এ বার জিতেছে তৃণমূল। বোলপুরে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জিতেছে তারা। বীরভূমে শতাব্দী রায় জিতেছেন ৮৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে। বুধবার মনিরুলরা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর মুকুলবাবু বলেন, চুরির ভোটে জিতেছে তৃণমূল। আর তা পারবে না। বীরভূমের আরও বহু তৃণমূল নেতা বিজেপি-তে আসতে চাইছেন।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তৃণমূলের জন্য এটা বড় ধাক্কা বইকি। কারণ, অনুব্রত এমন একটা ধারণা তৈরি করতে সফল হয়েছিলেন যে তাঁর জেলা অভেদ্য। সেখানে বিজেপি এ বার পাঁচ লাখের উপর ভোট পেয়েছে। বীরভূম আসনের চারটি বিধানসভাতেই পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সেই পরিস্থিতি জেলা তৃণমূলের চার জন বিজেপি-তে যাওয়ার অর্থ অনুব্রতকে অনেকেই আর ভয় পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত অবশ্য বলেন, “এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। মনিরুল গত দেড় বছর ধরে ক্যানসারের রোগী, নিজের এলাকাতেও যেত না। তাই ও থাকল না গেল কী যায় আসে? ” বাকিদের কথা জানতে চাওয়ায় তাঁর মত, যাঁরা দল বদলেছেন, তাঁরা টাকা নিয়েছেন। সবই টাকার গল্প”। তাঁর দাবি, “এতে বীরভূমে কোনও সমস্যা হবে না। বীরভূমের পাতা (আমার কথায়) যেমন নড়ত, তেমনি নড়বে।”