
শেষ আপডেট: 29 August 2020 07:23
দায়িত্ব পাবার পর তিনি মিলি নামে এক বাচ্চা মেয়ের এনিমেটেড চরিত্র তৈরী করেন। সাড়ে তিন মিনিট দৈর্ঘ্যের এই এনিমেশন ফিল্মে গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো মিলির চোখ দিয়েই দেখানো হয়েছে। ছবিতে খুব সহজ ভাবে দেখানো হয়েছে শিশু নির্যাতন কী এবং সমাজের কোন কোন ক্ষেত্রে কাদের দ্বারা এই ধরনের ঘটনা সাধারণত ঘটে থাকে। পরবর্তী পর্যায়ে কিভাবে এই অপরাধ নির্মূল করা যায়, সহজভাবে তাও দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে ছবিটিতে।
"কী ভাবে বানালেন এই ফিল্ম ? এর মাধ্যমে কোন বার্তা দিতে চাইছেন? " - সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে অভ্রদীপ জানান "চাইল্ড এবিউস সংক্রান্ত ঘটনা বেড়েই চলেছে আমাদের সমাজে। ঘটনা ঘটে যাবার পর বেশিরভাগ সময় দেখা যায় শিকার হওয়া শিশুরা তার বাড়ির লোককে সমস্যার কথা বলতে চায় না। বললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিভাবকেরা বিষয়টিকে ঠিকঠাক গুরুত্ব দেন না। অথবা লোক-লজ্জার ভয়ে এই ধরনের ঘটনা চেপে যান। ফলে প্রকৃত অপরাধী শাস্তি পায় না। এই সমস্ত কিছুতে শিশুমনে ভয়ানক চাপ পড়ে। কিন্তু এই সমস্যারও সমাধান আছে। কিভাবে চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে শিশুর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে এই সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো যায় সেটাও দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। মানে সমস্যার পাশাপাশি সমাধানের পথও সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে। এটিকে পুরোপুরি শিক্ষামূলক গাইডলাইন বলা যায়।"
"কোনো শিশু অভিনেতাকে দিয়ে অভিনয় না করিয়ে এনিমেশন কে বাছলেন কেন?"
এ প্রশ্নের উত্তরে অভ্রদীপ জানান : "বাচ্চাদের কাছে কার্টুন বা এনিমেশনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। তাছাড়া আমি চাইনি কোনো শিশু শিল্পীকে দিয়ে এই ধরনের অভিনয় করিয়ে তার মনকে আতঙ্কগ্রস্ত করতে। তাই আমি মিলির মতো একটা এনিমেশন চরিত্র তৈরী করেছি। "
জলপাইগুড়ি জেলাশাসক অভিশেখ কুমার তেওয়ারির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "আমরা চেয়েছি শিশুদের যৌন নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যা কমাতে। কিন্তু এরজন্য শিশু সহ অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা প্রয়োজন। তাই চাইল্ড এবিউস ও তার প্রতিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন খুঁটিনাটি নিয়ে এই ছবি আমরা আমাদের সাইটে আপলোড করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করব"
বিশেষজ্ঞদের মতে আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যখন দেশ জুড়ে হাজার হাজার শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার, তখন এই ছোট্ট ছবিটি গাইডলাইনের মত অনেক মানুষকে সমাধানের পথ দেখাতে পারে।