
বন্ধ হয়ে গেল আরও একটি চা বাগান। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 1 May 2024 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যা মে দিবস নামে অভিহিত। ১ মে, সেই মে দিবসেই কর্মহীন হয়ে গেলেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক৷ বন্ধ হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের আরও একটি চা বাগান৷ আতান্তরে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ৷ জলপাইগুড়ির বানারহাটের তোতাপাড়া চা বাগানের ঘটনা।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তবারক আলি। তিনি বলেন, "বেশ কিছুদিন ধরেই মালিকপক্ষ কর্মচারীদের মজুরি দিচ্ছিলেন না। শ্রমিকরা নিজেদের বকেয়া পাওনার কথা বলতেই এভাবে বাগান বন্ধ করে দেওয়া হল। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলব।"
একই বক্তব্য অন্য একটি শ্রমিক সংগঠনের নেতা অজয় মাহালির। তিনি বলেন, “সমস্যা থাকলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। তা না করে যেভাবে শ্রমিক দিবসের ঠিক আগের রাতে চা বাগান বন্ধ করা হল তা নিন্দনীয়।" এ ব্য়াপারে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষর অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জানা গেছে, জলপাইগুড়ির বানারহাটের তোতাপাড়া চা বাগানে স্থায়ী শ্রমিক সংখ্যা বর্তমানে ৮৩০ জন। এছাড়াও কয়েকশো অস্থায়ী কর্মীও রয়েছেন। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় এক হাজার।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মাস খানেক ধরেই মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি দিচ্ছিলেন না। এমনকী পিএফ, গ্র্যাচুইটির মতো বিভিন্ন পাওনাও বাকি ছিল। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েও কাজ না হওয়ায় শ্রমিকদের একাংশ বানারহাট থানায় গিয়ে নিজেদের দাবির কথা জানান। এরপরই বিডিও-র তত্ত্বাবধানে ২৭ এপ্রিল দু'পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও ডাকা হয়। যদিও সেই বৈঠকে মালিক পক্ষ হাজির ছিল না।
সূত্রের খবর, পরের দিন চা বাগান কর্তৃপক্ষর তরফে প্রশাসনকে জানানো হয়, শ্রমিকদের দ্রুত বকেয়া টাকা মেটানো হবে। শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তাঁদের বকেয়া মজুরি মিটিয়েও দেন বাগান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এদিন সকালে বাগানে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকেরা দেখেন, গেটে তালা ঝুলছে। সঙ্গে থাকা নোটিসে লেখা-'অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল'।
ঘটনার জেরে রাতারাতি কর্মহীন হাজার জন শ্রমিক। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট চা বাগান এলাকায়।