
শেষ আপডেট: 24 March 2023 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: নিয়োগ দুর্নীতিতে (SSC Recruitment Scam) এবার নতুন নাম। প্রাক্তন তৃণমূল নেতা পাণ্ডুয়ায় এক শিক্ষক সেখ আব্বাস আলির বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠল। এখন তিনি বিজেপি করেন। ওই শিক্ষক অবশ্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আব্বাস আলি পান্ডুয়ার দাবরা হাই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। অয়ন শীলের (Ayan Sil) নিয়োগ দুর্নীতি চক্রে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পাণ্ডুয়ার বধু নাসিরা খাতুনের।
নাসিরার অভিযোগ, ২০১৫ সালে আব্বাস আলিকে তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন স্কুলে চাকরির জন্য। তাঁর মতো আরও কয়েকজনও টাকা দিয়েছিলেন। টেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন নাসিরা। টাকা দেওয়ার পর বিকাশভবনে তাদের নিয়ে গিয়ে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। নাসিরা জানান, বিকাশ ভবনের পিছন দিকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে আটজন আটজন করে তুলে বিকাশ ভবনের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে একজন একটা ডায়েরিতে নাম আর ফোন নম্বর লিখে নিচ্ছিলেন। এটাই ইন্টারভিউ।
নাসিরা বলেন, “চাকরি না হওয়ায় আব্বাস আলির থেকে টাকা ফেরত চাইতে গিয়েছিলাম। তখন আব্বাস অয়ন শীলের নাম করে। তারপর অয়ন শীলের ফ্ল্যাটে যাই। সেখানে অয়ন আমাদের একটি কাগজ বের করে দেখান। বলেন, লিস্টে যাদের নাম নেই তাদের হবে না।” প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে এরপর আব্বাসকে ধরেন নাসিরা সহ আরও কয়েকজন। পুলিশেও জানানো হয়। তাতে অবশ্য কিছু লাভ হয়নি।
এদিকে আব্বাস আলি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অয়ন শীলকে চিনতেন পান্ডুয়া পঞ্চায়েত থেকে। পরে নিজেও ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূল সদস্য হন। ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই থেকে তাঁর অনেক শত্রু। তিনি বলেন, “কারও থেকে টাকা নিইনি। তবে দেবানন্দপুরের শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় যে অয়নের হয়ে টাকা তুলেছিলেন, সেটা আমি জানতাম। শ্রীকুমারই আমাকে বলেছিলেন। সে সময় আমার কাছে যাঁরা এসেছিলেন চাকরির বিষয়ে জানতে, তাঁদের আমি বলেছিলাম শ্রীকুমারদা খুব ভালো মানুষ। তাঁকে বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু অয়ন শীলের সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ ছিল না।”