
শেষ আপডেট: 5 June 2023 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রানিগঞ্জের সরকারি স্কুলের বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়া। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে পরীক্ষার কিছুদিন আগে ধরা পড়ে অসুস্থতা। চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছিল চেন্নাইতে। ফলে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়ে জীবন। আর সেই অবসরে তিনি পড়তে শুরু করেন জ্যাক মা, মার্ক জুকারবার্গ, রবার্ট কিওসাকির জীবনী। তাতেই বদলে যায় তার গোটা দর্শনটা। আজ সেই ছাত্রী, অঞ্জলি বর্মণ বানিয়ে ফেলেছেন আস্ত একটা অ্যাপ। সেই সুবাদেই উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকার বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
অ্যাপের নাম 'এমাচ্যাট'। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় 'চ্যাটিং' বা বার্তালাপের জন্যই বানানো এই অ্যাপ। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে অজস্র ছোট-বড় অ্যাপ বাজারে এসেছে। রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার, স্ন্যাপ-চ্যাট, সিগন্যাল, টেলিগ্রামের মত বড় বড় অ্যাপ। কিন্তু অঞ্জলির দাবি, তাঁর অ্যাপ এদের প্রতিযোগী নয়, হতেও চায় না। এটা একেবারে আলাদা।
শুরু থেকে অঞ্জলির ইচ্ছে ছিল, বাঁধা গতে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবার দিকে তিনি যাবেন না। তিনি উদ্যোগপতি হবেন। বস্তুত 'ওয়ো' প্রতিষ্ঠাতা রীতেশ আগরওয়ালের জীবনী তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। মাত্র উনিশ বছর বয়সে যে একটা 'ইউনিকর্ন' কোম্পানি বানানো সম্ভব, ভাবতে শুরু করেন অঞ্জলি।
আর সেই ইচ্ছেটাকেই বাস্তবের মাটিতে ফেলে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিকের পরে তিনি চলে যান বেঙ্গালুরুতে। অ্যাপ কীভাবে বানাবে, এই নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনার পাশাপাশি অঞ্জলি ভবিষ্যতের কথা ভেবে তখন থেকেই বানাতে শুরু করে দেন নিজের 'টিম'। অঞ্জলির কথায়, 'শুরুতে দু'-তিনজনই ছিল। পরে আমি নিজের টিম সেটআপ করি। এখন আমার টিমের সদস্য প্রায় তিরিশ জন। রয়েছেন আইআইটি থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার থেকে গুগলের মত সংস্থায় কাজ করা ডেভেলপার। তাঁদের অনেককে আমি প্রতিমাসে এক লাখ টাকার ওপর স্যালারি দিই। ওঁরা আমার অধীনে কাজ করছেন।'
পরে অঞ্জলি অ্যাপ বানিয়ে তার চাহিদা বা কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পরীক্ষামূলক রিলিজ করান। দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি বা জাপানে দারুণভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে এই অ্যাপ। ভাল সাড়া দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। সাফল্যের স্বাদ আসে অঞ্জলিদের টিমে। অঞ্জলি বলেন, 'আমি জানতাম, আমি বড় কিছুই করব। তাই শুরুতে দেখছিলাম, কয়েক বছর চেষ্টা করে দেখি। সেই চেষ্টা থেকেই বানালাম অ্যাপ। বাকিদেরও বলব, যদি কিছু করার স্বপ্ন থাকে, ইচ্ছে থাকে, অন্তত চেষ্টা করে দ্যাখো।'
এবার তাঁর মত নতুন 'উদ্যোগপতি'-র সন্ধান পেয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বাইশ জন নোবেলজয়ীর সৃজনপীঠ, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই বিনের বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যানফোর্ড তাঁকে তিন বছরের জন্য বিশেষ একটি কোর্সে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে। প্রায় তিন কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ-খরচার সবটাই বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। অঞ্জলি থাকবেন লাগুনিতা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ায়। যার সামনেই থাকবে ছবির মত সুন্দর লাগুনিতা হ্রদ।
ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ লক্ষ উপভোক্তার কাছে পৌঁছে গিয়েছে 'এমাচ্যাট'। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত চ্যাটের পরিসরে কাছাকাছি চলে আসবেন যুগলে, যারা হয়ত কর্মসূত্রে বা অন্য কোনও কাজে দূরত্বে রয়েছেন। অঞ্জলির আশা, অচিরেই এই অ্যাপ ভারতেও বহু মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি চান, এই অ্যাপের হাত ধরে আরও অনেকের কর্মনিয়োগ হোক।
আপাতত লাখো মানুষকে কাছাকাছি আনার স্বপ্নে ভর করেই সীমাহীন আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টায় রানিগঞ্জের অঞ্জলি।
খনিজ তেলের চেয়েও আগে শেষ হয়ে যেতে পারে খাবার জল, সতর্ক করলেন আইআইটির বাঙালি বিজ্ঞানী