
শেষ আপডেট: 5 July 2023 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার ছাত্র নেতা আনিস খানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার কিনারা হয়নি এখনও। প্রতিবাদে পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন আনিসের মেজো দাদা সামসুদ্দিন খান। শনিবার ভোট। অভিযোগ, সিপিএমের প্রার্থী হওয়ায় ভোট মিটলেই আস্ত পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। সম্প্রতি এই হুমকির মাত্রা বেড়েছে বলে দাবি পরিবারের। তারই জেরে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার দাবিতে সরব হয়েছেন আনিসের বাবা সালেম খান ও দাদা সামসুদ্দিন।
সালেম বলেন, “এক ছেলেকে (আনিস) পুলিশ খুন করল। প্রতিবাদে আরেক ছেলে ভোটে দাঁড়ানোয় পুরো পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে মহকুমা শাসক, সকলের কাছে আর্জি জানিয়েও লাভ হয়নি। কমিশনকে বলেছি, নিরাপত্তা দিন। কারণ, বাড়ির কাছে পুলিশ পোস্টিং থাকলেও তারা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করে। রাজ্য পুলিশে আর ভরসা রাখতে পারছি না।”
আরও একধাপ এগিয়ে আনিসের মেজো দাদা তথা সিপিএমের পঞ্চায়েত প্রার্থী সামসুদ্দিন খান বলেন, “চুরি করে ভোটে জিতবে তারপরে প্রাণে মেরে দেবে। এটা নিয়ে সত্যি খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।” এদিন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার মাধ্যমে আদালতের বিচারপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার পরিবারের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন এবং রাজ্য পুলিশ ছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে যেন ভোট হয়। তা না হলে আমার পরিবারের বেঁচে থাকার কোনও উপায় থাকবে না।” নির্দিষ্ট করে কোনও বিচারপতির নাম অবশ্য উল্লেখ করেননি সামসুদ্দিন।
যদিও আনিসের পরিবারের আনা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের হাওড়া গ্রামীণের সভাপতি অরুনাভ সেন। তিনি বলেন, “হুমকির অভিযোগ ঠিক নয়। হেরে যাবে বুঝতে পেরে ভোটের আগে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাইলে কেন্দ্রকে জানাক। আসলে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ বেশি করে কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এর থেকেই স্পষ্ট, ওদের রাজনৈতিক অবস্থান। যদিও আনিস খানের পরিবারের এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাছে কোনও ‘খবর’ নেই বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
আরও পড়ুন: ভোটের দিন ‘কী করতে হবে’, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু