
শেষ আপডেট: 14 March 2022 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনিস খানের (Anis Khan) রহস্য়মৃত্যুতে রাজ্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের (SIT) কাজ কতদূর এগোল সে নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ। এতদিন পরেও তদন্তপ্রক্রিয়া কেন একই জায়গায় আটকে রয়েছে সে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। সিটের কাজ আশানুরূপ নয়, এ ব্য়াপের বহুবার অভিযোগ তুলেছেন আনিসের বাবা সালেম। সোমবার মামলার শুনানির সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনওরকমভাবেই সিটের তদন্তপ্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো যাবে না। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।
হাওড়ার আমতায় নিজের বাড়িতে ছাত্রনেতা আনিস খানের (Anis Khan) অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে পেশ করার পাশাপাশি তার প্রতিলিপি মৃতের পরিবারের আইনজীবীদের দেওয়া হয়েছিল। সিটের রিপোর্ট গত শুক্রবার হাইকোর্টে জমা পড়লেও এখনও তা সামনে আনা হয়নি। আদালতের নির্দেশ ছিল, ওই রিপোর্ট নিয়ে যা বলার, তা আদালতেই বলতে হবে। রিপোর্টের কোনও অংশ যেন শুনানির আগে প্রকাশ্যে না আসে।
এদিন মামলার শুনানির দিন আনিসের (Anis Khan) পরিবার ফের অভিযোগ করেছে, সিটের তদন্তে কোনও অগ্রগতিই নেই। তাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী আমিতেস বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, ফরেন্সিক রিপোর্ট সামনে না আসা অবধি তদন্তে অগ্রগতি সম্ভব নয়। আইনজীবীর বক্তব্য, ফরেন্সিকের তথ্য হায়দরাবাদ থেকে আসবে। মোবাইলে যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রাথমিক রিপোর্ট আসছে ততক্ষণ তদন্তপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।
Anubrata High Court: সিঙ্গল বেঞ্চে ধাক্কা, অনুব্রতর আবেদন শুনল ডিভিশন বেঞ্চ
সিটের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন আনিসের (Anis Khan) বৃদ্ধ বাবা সালেম খান। ১৮ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে তাঁদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানোর পিছনে কারা ছিল, সেই প্রশ্নও বার বার তুলছেন তিনি। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে হোমগার্ড কাশীনাথ বেরা ও সিভিক ভলান্টিয়ার প্রীতম ভট্টাচার্যকে। ধৃতেরা এখন পুলিসি হেফাজতে। হাইকোর্টে ২০ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিট। শেষবার শুনানির সময় বিচারপতি রাজশেখর মান্থা প্রশ্ন তুলেছিলেন, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কেন, গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়নি।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, সিট যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে কিছুই নেই। শুধু আদালতের নির্দেশ মত কি হয়েছে সেটা বলা আছে। কারা জড়িত তাদের নাম নেই।
আদালতের নির্দেশ, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এফএসএল ও সিএফএলের রিপোর্ট জমা করতে হবে। সিটের তদন্তে কোন রকম ভাবেই হস্তক্ষেপ করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৮ই এপ্রিল।