আনিসের দেহ কবর থেকে চুরি করতে এসেছিল পুলিশ, দাবি বৃদ্ধ বাবার
ভোররাতে কবর থেকে ছেলের(Anis Khan) দেহ চুরি করতে এসেছিল পুলিশ, এমনটাই দাবি করলেন ছাত্রনেতা আনিস খানের (Anis Khan Death) বৃদ্ধ বাবা সালেম। শনিবার কাকভোরে কবর থেকে আনিসের দেহ তুলে নিয়ে যেতে আসেন পুলিশ ও সিটের (SIT) সদস্যরা। ছিলেন সরকারি আধিকার
শেষ আপডেট: 26 February 2022 05:13
ভোররাতে কবর থেকে ছেলের(Anis Khan) দেহ চুরি করতে এসেছিল পুলিশ, এমনটাই দাবি করলেন ছাত্রনেতা আনিস খানের (Anis Khan Death) বৃদ্ধ বাবা সালেম। শনিবার কাকভোরে কবর থেকে আনিসের দেহ তুলে নিয়ে যেতে আসেন পুলিশ ও সিটের (SIT) সদস্যরা। ছিলেন সরকারি আধিকারিকরাও। আদালতই নির্দেশ দিয়েছিল দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের (Second Post-Mortem) জন্য আনিসের দেহ কবর থেকে তোলা যেতে পারে। কিন্তু কবর খুঁড়ে দেহ তোলাকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই তুমুল অশান্তি শুরু হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের জেরে ফিরে যেতে হয় পুলিশ ও সিটকে।
আনিসের বৃদ্ধ বাবার অভিযোগ, কবর থেকে ছেলের দেহ চুরি করতেই এসেছিল পুলিশ। তাঁর দাবি, পুলিশকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছিল পরিবার। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কবর থেকে দেহ তোলার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। শুধু বলা হয়েছিল, সোমবার পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে দেহ বের করতে দেওয়া হবে। কিন্তু আলোচনার পরেও ভোররাতে পুলিশ লুকিয়ে দেহ বের করে নিয়ে যেতে আসে। একে চুরিই বলা যায় বলে মন্তব্য সালেমের। সিটের সদস্যরাও ছিলেন সেই দলে।
আরও পড়ুন: আনিসের কবরের সামনে ভোররাত থেকে তুমুল বিক্ষোভ, দেহ তুলতেই দিলেন না গ্রামবাসীরা
আনিসের বাবা বলেছেন, তিনি অসুস্থ। শরীর একটু ঠিক হলে তিনিই দাঁড়িয়ে থেকে গোটা প্রক্রিয়াটা করাতেন। কিন্তু পুলিশ ও সিট তাড়াহুড়ো করে দুদিন আগেই চলে এল। তাও আবার পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতিতে দেহ বের করার চেষ্টা হয়েছে। সিটের ওপরেও ভরসা হারিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবারই আনিস মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে এদিন হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায় যে, আদালতের নজরদারিতেই তদন্ত করবে সিট। এমনকি আনিসের দেহ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তেরও নির্দেশ দেয়। সিটের সদস্যদের সঙ্গে আনিসের পরিবারকে সহযোগিতা করার কথাও বলে আদালত।
এই নির্দেশের পরই রাতে ফের সিটের সদস্যরা পৌঁছান আমতায়। দেখা করেন আনিস খানের পরিবারের সঙ্গে। পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেখানে আনিসের দেহ কবর দেওয়া হয়েছে সেখানে আলো ও সিসিটিভির ব্যবস্থা করা হয়। আনিসের বাবা প্রথমে রাজি না হলেও পরে মত দেন। তবে তাঁর উপস্থিতিতে দেহ বের করার কথা বলেন। এদিন ভোরে পুলিশ আচমকাই গ্রামে চলে এলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। তুমুল বিক্ষোভ ও বাধার জেরে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয় পুলিশ ও সিট।
আরও পড়ুন: টিআই প্যারেডে গিয়ে আনিসের বাবা বললেন, এখানে খুনি নেই