দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতির জেরে বেড়েছে কুরবানির পশুর দাম। কলকাতার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোয় ভিড় জমলেও বিক্রি তেমন নেই। বাজার মন্দার কারণে পশু ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে।
করোনার কারণে এবার সেভাবে পশুর হাটে আসতে পারেনি ভিন রাজ্যের পশু। তার উপর উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার আসার পর থেকেই গরু কাটা ও মাংসের জন্য বিক্রির উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওই রাজ্য থেকে কুরবানির গরু আসা অনেক কমে গিয়েছে। সেই শূন্যস্থান অনেকটা পূরণ করছিল বিহার। বাকি বাজার দখল করেছেন মুর্শিদাবাদ, বনগাঁ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পশু ব্যবসায়ীরা। মূলত এ সময় উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান থেকে শহরে আসে গরু, উট, বড়মাপের খাসি এবং দুম্বা।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে আন্তঃরাজ্য গণপরিবহন স্বাভাবিক না হওয়ায় তা সেভাবে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে দাম অনেকটাই বেশি। এবারে গরু বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকায়, খাসি ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার। দুম্বার দর শুরুই হয়েছে দেড়লাখ টাকা থেকে। যা গতবছরও এর অর্ধেক দামে কিনতেন শহরের মানুষ।
নিউমার্কেটের মাংস বিক্রেতা বাদশা জানালেন, মুর্শিদাবাদের পশু বিক্রেতারা এবার কলকাতায় আসেননি। কারণ, বাড়তি গাড়ি ভাড়া দিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় এসে লাভ হবে না বলে মনে করেছেন তাঁরা।
পার্কসার্কাসের বাসিন্দা শাহরিয়ার জানালেন, যে গরু ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে মিলত, সেই গরুর এবছরের দাম এক লক্ষ টাকা। যে খাসি আগে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় মিলত, সেগুলোর দামই শুরু হয়েছে ২৫ হাজার টাকা থেকে।
এদিকে, পশু কেনা-বেচা ও হাট বসানোর উপর কেন্দ্র সরকার বিল এনেছে। তবে কলকাতায় তার তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি।
আগে কলকাতায় বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাট বসত। ইদের দুদিন আগে থেকে শুরু হত পুরোদমে বেচা-কেনা। এসব অস্থায়ী হাটের বিক্রেতারা আসতেন মালদা, বসিরহাট, দুই চব্বিশ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, রাজ্যস্থান থেকে।
এবছর বাইরে থেকে আনা পশুর সংখ্যা অনেক কম। তবে শহরের স্থানীয়দের মধ্যে বাইরে থেকে আসা পশুর প্রতি আগ্রহ বেশি। এর মধ্যে আছে উট, দুম্বা ও উন্নত জাতের খাসি। তবে এবারেও হাট বসেছে নাখোদা মসজিদের পাশে জাকিরিয়া স্ট্রিট, রাজাবাজার, খিদিরপুর, গার্ডেন রিচ ও মেটিয়াবুরুজে। তবে করোনার জন্য এবছরও নারকেলডাঙায় পশুর বাজার বসেনি। তবে অনলাইনে এবার অনেকই উট, গরু, খাসি, দুম্বা কিনেছে।