
শেষ আপডেট: 24 March 2022 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা থেকে কয়েকশ ক্রোশ দূরে কী যে ঘটে চলেছে সব সময়ে তা মালুম হয় না! যেমন, বগটুইয়ের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখের বর্তমান বসতবাটি দেখে তাঁর অতীত বোঝার উপায় ছিল না। মারা যাওয়ার পর জানা গিয়েছিল, এক সময়ে দিন মজুরের কাজ করতেন ভাদু। তার পর পাথর-বালির পথ ধরে বহুতলের মালিক বনে গিয়েছিলেন তিনি। বিষ্যুদবার জানা গেল, বগটুই কাণ্ডের অন্যতম খল চরিত্র বলে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আনারুল হোসেনও (Anarul Hossain) কম বড় ‘খেলোয়াড়’ ছিলেন না।

আরও পড়ুন: বগটুইয়ের আনারুল গ্রেফতার তারাপীঠ থেকে, মোবাইলের সূত্র ধরেই খোঁজ মিলল
তৃণমূলের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের ব্লক সভাপতি ছিলেন আনারুল হোসেন। আসলে তাঁর আসল বাড়ি ছিল রামপুরহাটের সুদিপুর গ্রামে। সেখানে প্রথমে রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ের কাজ করতেন আনারুল। পরে রাজমিস্ত্রী হন। তার পর যা হয়। এলাকায় কংগ্রেসের ছোট খাটো সভায় ভিড় করতে যেতেন। ক্রমে হাতেখড়ি কংগ্রেসে। তার পর তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হওয়ার পর জোড়াফুলে নাম লেখান আনারুল হোসেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর ক্রমশই স্থানীয় বিধায়ক তথা বর্তমান ডেপুটি মেয়র আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। সেই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন আনারুল। বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের সবুজ সঙ্কেত ছাড়া পাতা নড়ে না। আনারুলকে অনুব্রতই ব্লক সভাপতি করেছিলেন। আবার স্থানীয় লোকজনকের কথায়, আনারুল ছিলেন ভাদুর বড় ভাই। আনারুলের আস্কারাতেই ডাল পালা ছড়িয়েছিলেন ভাদু।

আরও পড়ুন: আনারুলের বাড়ি ঘিরল অনুগামীরা, '১০ হাজার লোককে গ্রেফতার করলে দাদাকে ছোঁয়া যাবে'
বস্তুত ভাদু শেখ খুন হওয়া এবং তার পর বগটুইয়ে আগুনে পুড়ে ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বারবার আনারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, আগুন লাগানোর সময় তাঁরা আনারুলকে খবর দিয়েছিলেন। কারণ তাঁর কথাতেই ওঠবোস করে এলাকার পুলিশ। কিন্তু আনারুল সেই আর্ত চিৎকারেও কোনও সাড়া দেননি।